মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

রাখাইন রাজ্য দখলের দাবি আরাকান আর্মির

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২৩, ০১:৫২ এএম

মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি (এএ) রাখাইন রাজ্যের ১৭টি শহরের (টাউনশিপ) ১৫টিতে সামরিক জান্তার বিপুল সংখ্যক অবস্থান দখলে নেওয়ার দাবি করেছে। রাখাইন এবং এর প্রতিবেশী চিন রাজ্যের পালেতওয়া শহর মিলিয়ে ১৪২টির মতো অবস্থান হারিয়েছে জান্তা। গত মাস থেকে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা দেশটিতে ধারাবাহিকভাবে পর্যুদস্ত হচ্ছে। 

আরাকান আর্মি গত বৃহস্পতিবার জানায়, রাখাইনের রাজধানী সিতওয়ের একটি প্রধান ঘাঁটি, ১৪টি শহরজুড়ে সামরিক নিরাপত্তা চৌকি এবং চিন রাজ্যের পালেতওয়ার সীমানা বরাবর ১৭টি অবস্থানসহ প্রধান প্রধান লক্ষ্যবস্তুকে কেন্দ্র করে ৪৫ দিন ধরে লড়াই চলছিল জান্তার সঙ্গে। রাখাইনের উত্তরে ম্রাউক ইউ, পাউকতাউ, মংডু শহরে এবং পালেতওয়ায় আরাকান আর্মির সঙ্গে ব্যাপক লড়াই চলছে জান্তার বাহিনীর। উল্লেখ্য, মংডু জেলা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী।

ম্রাউক ইউ শহরের কোয়ে থাউং প্যাগোডার কাছে গত বুধবার জান্তার সঙ্গে বিদ্রোহীদের লড়াই শুরু হয়। এরপর ম্রাউক ইউ ছাড়াও জান্তার বাহিনী এখানকার ইওয়াল হাং তাউ, পিপিন কোনে, মং থার কোনে গ্রামে বিমান হামলা চালায় জান্তার বাহিনী। বাড়িঘর, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও প্যাগোডার ক্ষতি হলেও কোনো বেসামরিক মানুষ মারা যায়নি। সোমবার জান্তার গোলার আঘাতে এক বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। 

গত অক্টোবরের শেষদিকে মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ), তা’য়াং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) এবং আরাকান আর্মি (এএ) মিলে গঠিত ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’ নামের সশস্ত্র জোট জান্তার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ধার বাড়ায়। ফলে চীনা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জান্তার অনুগত বাহিনী গত মাসে ব্যাপক ধাক্কা খায়। তখন থেকে এই তিন বাহিনীর সাঁড়াশি আক্রমণে নেপিদোকেন্দ্রিক সামরিক বাহিনীর প্রশাসন কার্যত দিশেহারা। আরাকান আর্মির দাবি অনুযায়ী, রাখাইনে দখলদারি জারি রাখতে পারলে তা জান্তার জন্য বড় আঘাত হয়ে দাঁড়াবে। বাংলাদেশও রাজ্যটির ওপর নজর রাখবে। কারণ ওই রাজ্যের ইসলাম ধর্মাবলম্বী বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।  

আরাকান আর্মি জানায়, রাখাইন রাজ্যে গত ১৩ নভেম্বর থেকে মোট ৩০০ বেসামরিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জান্তার বাহিনী। এর মধ্যে গত সোমবার ও মঙ্গলবার ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, স্কুলশিক্ষক। এ ছাড়া সিতওয়ে থেকে পাউকতাউয়ে পণ্য পরিবহনের কাজে যুক্ত নৌ-চালকদেরও ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মিনবিয়া শহরের মিয়াং গ্রামের সাতজনকে ধরে নিয়ে মানবঢাল বানানো হয়েছে। এসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরাকান আর্মির পাশাপাশি অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেতৃত্বাধীন সর্বশেষ বেসামরিক সরকারের আইনপ্রণেতা ও রাজনীতিকদের নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্য সরকারের (এনইউজি) সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ আনা হচ্ছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত