ঢাকা আন্তর্জাতিক নারী সংসদ ও আইকনিক উইমেন অ্যাওয়ার্ড

নারীর স্বাধীনতা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৪ এএম

নারীর নিরাপত্তা, অধিকার, ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও নেতৃত্বের বিকাশের লক্ষ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে তৃতীয় ‘আন্তর্জাতিক নারী সংসদ (আইডব্লিউপি) ও আইকনিক উইমেন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোলেটে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ‘গ্রাসরুটস টু গ্লোবাল : উইমেনস ইকোসিস্টেম’ প্রতিপাদ্যে জমকালো আয়োজনের এ সম্মেলনে ২০টির বেশি দেশের ২০০ জনেরও বেশি নারী নেতৃত্ব, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, উদ্যোক্তা ও শিক্ষাবিদ অংশ নেন।

সম্মেলনে নারীর জীবন ও স্বাস্থ্য, সামাজিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার, তৃণমূল থেকে বৈশ্বিক পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ে চারটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারীর স্বাস্থ্যসেবা, পারিবারিক ও সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ, আইনি সুরক্ষা, বিনিয়োগ, রিয়েল এস্টেট খাতে নারীর অংশ গ্রহণ, পুঁজির প্রাপ্যতা এবং আর্থিক স্বনির্ভরতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

এই আয়োজনে স্পন্সর পার্টনার রূপায়ণ গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রাতুল প্রপার্টিজ। অনুষ্ঠানে রূপায়ণ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও রাতুল প্রপার্টিজের চেয়ারম্যান নওরিন জাহান মিতুল বক্তব্য দেন। তিনি রিয়েল এস্টেট খাতে নারীদের আগ্রহী হতে অনুপ্রাণিত করেন। নওরিন জাহান মিতুল বলেন, ‘নারী উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে রূপায়ণ গ্রুপ। সমাজে মেয়েরা এগিয়ে গেলেই এগিয়ে যাবে দেশ।’ তিনি আরও বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়ন দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তবে কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ, নেতৃত্বে অংশগ্রহণ ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আরও উদ্যোগ প্রয়োজন।’ আলোচনায় আরও অংশ নেন জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ ড. হালিদা হানুম আখতার, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসির (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) সচিব ও নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. সরওয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাম্বাসেডর গ্রুপ অব কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ওয়ালিদ মুকাই আলী ও রাতুল প্রোপার্টিজের সিইও মোজাম্মেল হক আকন্দ।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৫টি বিভাগে ৩০ জন নারীকে ‘আইকনিক উইমেন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ দেওয়া হয়। উদ্যোক্তা উন্নয়ন, তৃণমূল ও সামাজিক উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং সামাজিক প্রভাবসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তাদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়। পাশাপাশি জাতীয় অগ্রগতিতে দীর্ঘমেয়াদি ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয় ‘লুমিনারি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’। ইন্টারন্যাশনাল উইমেন পার্লামেন্টের জুরি বোর্ড বিজয়ীদের নির্বাচন করে।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান অ্যারেনা ফর গ্লোবাল এনগেজমেন্ট লিমিটেডের (এজিই) চেয়ারম্যান সৈয়দ ইকবাল রিজভী বলেন, ‘ব্যবসা, জনপ্রশাসন ও সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশের নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। আন্তর্জাতিক নারী সংসদের আয়োজন ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় তাদের নেতৃত্ব ও অর্জন বিশ্বপরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ক্ষেত্রও তৈরি হবে।’

ইন্টারন্যাশনাল উইমেন পার্লামেন্টের সভাপতি নমিতা ঘিমিরের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যাঞ্জেল ঘিমিরে বলেন, ‘বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের সঙ্গে স্থানীয় উদ্যোগের সংযোগ তৈরি করাই এ প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য। ঢাকার এ আয়োজন দক্ষিণ এশিয়ার নারীদের নেতৃত্বকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরবে।’

গ্লোবাল কমপ্যাক্ট নেটওয়ার্কের সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর জুলিয়ানা আভো বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান নারীর ক্ষমতায়নের নীতিমালায় স্বাক্ষর করলেও বাস্তবে তা বাস্তবায়ন করছে না। কর্মক্ষেত্রে নারীদের পদোন্নতি ও নেতৃত্বের সুযোগ বাড়াতে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নেতৃত্বের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। পাশাপাশি ইএসজি  রিপোর্টিং বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন, যাতে কর্মক্ষেত্রে নারীদের প্রকৃত অবস্থান ও অভিজ্ঞতা উঠে আসে।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের উদ্যোক্তা অ্যারেনা ফর গ্লোবাল এনগেজমেন্ট লিমিটেড (এজিই)। সহযোগিতায় ছিল প্রজেক্ট ১০০ ও ইন্টারন্যাশনাল উইমেন পার্লামেন্ট। এর আগে ২০২৩ সালে ভারতে এবং ২০২৫ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত