রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকায় তেলাপোকা মারার স্প্রে’র বিষক্রিয়ায় দুই শিশুর মৃত্যুর অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। পেস্ট কন্ট্রোল কোম্পানির ডিসিএস অর্গানাইজেশন লিমিটেডের মালিকসহ চার কর্মকর্তাদের অবহেলায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি।
ডিবি বলছে, বিষ স্প্রে করার পরবর্তীতে তাদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে দুই শিশুর মৃত্যু হওয়ার বিষয়টির প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য ছিল সেবা দেওয়া নয় মুনাফা করা। মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দুই একদিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করবে গোয়েন্দা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২০ ডিসেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবিতে নিজ কার্যালয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।
এ ঘটনায় চার আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। তারা হলেন- ডিসিএস অর্গানাইজেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান (৩৭), ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ফরহাদুর আমিন ( ৩৩), সিনিয়র এক্সিকিউটিভ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট মো. মোছলে উদ্দিন শামীম ( ৩০)। স্প্রে অপারেটর মো. টিটু মোল্লা ( ৩৭)।
হারুন অর রশিদ বলেন, ১৪ ও ১০ বছরের অবুঝ দুই শিশু পেস্ট কন্ট্রোলের কারণে অকালে ঝড়ে গেলো। তারা মায়ের কোল খালি করে চলে গেছে। আমরা তদন্ত করতে গিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পেস্ট কন্ট্রোলের কোম্পানির চেয়ারম্যান এবং ম্যানিজিং ডাইরেকটরকে গ্রেপ্তার করেছিলাম। তখন আমরা বলেছিলাম আরও যারা জড়িত রয়েছে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে চার্জশিট দেওয়া হবে। আজকে আমরা চারজনের এর সঙ্গে সম্পৃক্ততা পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে আমরা চার্জশিট প্রদান করব। আমরা চার্জশিট প্রদান করার আগে এ বিষয়ে যারা অভিজ্ঞ অর্থাৎ পেস্ট কন্ট্রোল নিয়ে যাদের অভিজ্ঞতা আছে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। এখানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের লাইসেন্সের নিয়ম-কানুনে স্পষ্ট করে বলা আছে, যে বাসা বাড়িতে পেস্ট কন্ট্রোল করা যাবে না। এসব কেমিক্যাল বাসা বাড়ির জন্য ক্ষতিক্ষর। অ্যালুমিনিয়াম ফসফেট ব্যবহারের কারণে এই মৃত্যুটা ঘটেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ছাড়াও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। চিকিৎসকরাও একই কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে মত দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট মোছলে উদ্দিনকে পেষ্ট কন্ট্রোল প্রয়োগের পর নিহত শিশুর পরিবার যখন অস্বস্তিকরবোধ করছিল। শিশুদের মা ফোন করে বলেছিলেন, পেষ্ট কন্ট্রোল স্প্রে করার পর আমার ছেলেরা কেমন যেন এলোমেলো করছে। তখন বলেছে তিন থেকে চার ঘণ্টা পরে এটা ঠিক হয়ে যাবে কোনো চিকিৎসার দরকার নাই।
তিনি আরও বলেন, এটি প্রয়োগের আইন কানুন না জেনে মিথ্যাভাবে উপস্থাপন করে। চিকিৎসার প্রয়োজন নেই বলে কালক্ষেপণ করার জন্য মৃত্যুটি ঘটেছে। তাছাড়া আমরা জানি পেস্ট কন্ট্রোল স্থানে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা বায়ু চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। অথচ মোছলে উদ্দিন বাদিকে সঠিক তথ্য না দিয়ে পেস্ট কন্ট্রোল করার তিন চার ঘণ্টার মধ্যে বাসায় অবস্থান করা যাবে বলে তাকে জানায় এবং তারা এমন ভুল তথ্য উপস্থাপন করে। বাসায় অ্যালুমিনিয়াম ফসফেট ব্যবহার করা যাবে না। এ সম্পর্কে তারা না জেনেই বিক্রির জন্য বিভিন্ন বাসা বাড়িতে আবাসিক এলাকায় ব্যবহার করত।
