ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বড়দিনের ছুটি কাটাতে ভারতের দিল্লি গেছেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে বেসরকারি বিমান সংস্থার ভিস্তারার একটি ফ্লাইটে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি দিল্লি যান। এর আগে তার ভারত সফরের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। এ কারণেই তার এই সফর নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।
গতকাল পিটার হাস ঢাকা ছাড়ার পর কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বড়দিনের ছুটি কাটাতে ভারতে গেছেন। তিনি আগামী সপ্তাহে ঢাকায় ফিরবেন। এদিকে বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ, নির্বাচন ইস্যুতে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি অবস্থান এবং ভারতের অবস্থান নিয়ে আলোচনার মধ্যেই পিটার হাসের এই সফর নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বলা হচ্ছে, পিটার হাস ভারতে শুধু বড়দিনের ছুটি কাটাবেনই না, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারতের কূটনীতিকদের সঙ্গে আলোচনাও করবেন। কারণ, এর আগে গত বৃহস্পতিবার পিটার হাস পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠককে ঘিরেও নানামুখী আলোচনা আছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেশি সক্রিয়তায় রাশিয়া সরাসরি সমালোচনা করেছে। এমনকি দেশটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে আরব বসন্তের মতো একটি ঘটনা ঘটাতে পারে। যদিও ওয়াশিংটন বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে চীন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত ঐকমত্য থাকলেও বাংলাদেশের নির্বাচন ইস্যুতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে। ইতিমধ্যেই ভারত বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে তাদের মতামত স্পষ্ট করেছে। পাশাপাশি নির্বাচন নিয়ে ভারত বাংলাদেশের বর্তমান কার্যকলাপের বিরোধিতায় নেই। আবার চীনও বলছে, এই নির্বাচনের পরে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় যাবে।
কূটনীতিকরা মনে করছেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও নির্বাচন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের এই অঞ্চলের মিত্র ভারতকে একেবারেই এড়িয়ে যাবে না। এ বিষয়ে তাদের ভিন্ন অবস্থান থাকলেও এটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তাই ধারণা করা হচ্ছে পিটার হাসের ভারত সফর নিছক বড়দিনের উৎসব পালন নয়।
প্রসঙ্গত, পিটার হাস গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত আলোচনা করেন। পদ্মায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের আগে পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে দেখা করেন ঢাকায় যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক।
এর আগে গত ১৬ নভেম্বর শ্রীলঙ্কা সফরে যান পিটার হাস। পরে ২৭ নভেম্বর শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে বাংলাদেশে ফেরেন তিনি। সেই সময়ও তার শ্রীলঙ্কা সফর নিয়ে নানা আলোচনার ঝড় ওঠে।
