কিউইদের একশর আগে গুঁড়িয়ে দেওয়ার কথা কল্পনাও করেননি শান্ত

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ০১:২৫ পিএম

নেপিয়ারের উইকেট বেশিরভাগ সময়ই থাকে ব্যাটিং সহায়ক। কিন্তু আজকে যেন ভিন্ন কিছু চোখে পড়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর। নিউজিল্যান্ডকে অল্পতে আটকে রাখতে টস জিতে নিয়েছেন বোলিং। কিন্তু একশর আগে স্বাগতিকদের গুটিয়ে দেওয়ার কথা কল্পনাতেও ছিল না বাংলাদেশ অধিনায়কের।

ম্যাকলিন পার্কের উইকেটে এ দিন ঘাসের ছোঁয়া ছিল বেশ। তবে নিউজিল্যান্ডে এটা নতুন কিছু না। সীমিত ওভারের ম্যাচের পিচগুলোয় অনেক সময় ঘাস থাকলেও দেখা যায় তা ব্যাটিং সহায়কই থাকে। এবার ব্যতিক্রম। উইকেটে সিম মুভমেন্ট মিলল বেশ। কিউই ব্যাটসম্যানদের আরও বড় পরীক্ষার কারণ হয়ে দাঁড়াল উইকেটের অসমান বাউন্স।

বাংলাদেশের পেসারদের কৃতিত্বকেও এখানে খাটো করার উপায় নেই। উইকেটের সহায়তা কাজে লাগিয়ে তারা দারুণ বোলিং করেন। টপ অর্ডারে ছোবল দেন তানজিম হাসান। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে তিন ওভারে তিন উইকেট নিয়ে কিউই ব্যাটিংকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেননি শরিফুল ইসলাম। কন্ডিশন ও উইকেটের সহায়তা কাজে লাগিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেন সৌম্য সরকার।

নিউজিল্যান্ড গুটিয়ে যায় কেবল ৯৮ রানেই। বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জিতে যায় ২০৯ বল বাকি রেখে। কিউইদের বিপক্ষে তাদের মাঠে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ২৮ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রথম জয় এটি।

ম্যাচের পর অধিনায়ক শান্ত বললেন, উইকেটের সম্ভাব্য আচরণ তিনি আঁচ করতে পেরেছিলেন আগেই, 'আজকে উইকেটের অবস্থা ভিন্ন ছিল। পেসারদের জন্য সহায়তা ছিল। সকালে একটু মনে হয় আর্দ্রতাও ছিল। ওটাই কাজ লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছে। টস জয়টা খুব ভালো ছিল। গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে বোলাররা কতক্ষণ লম্বা সময় ধরে ভালো জায়গায় বল করতে পারে। ওরা করতে পেরেছে বলেই এরকম রানে ওদেরকে আটকে রাখতে পেরেছি।'

সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে বোলারদের পারফরম্যান্স খুব ভালো ছিল না। প্রথম ম্যাচে ৩০ ওভারে ২৩৯ রানের পুঁজি গড়ে ফেলে নিউজিল্যান্ড। পরের ম্যাচে বাংলাদেশ ২৯১ রান করলেও কিউরা অনায়াসেই জিতে যায় ৭ উইকেটে। এবার উইকেটে পেসারদের সহায়তা থাকলেও তাই নিউজিল্যান্ডকে একশর নিচের আটকে রাখার মতো কিছু কল্পনাও করতে পারেননি শান্ত।

তার ভাষায়, 'ওরকম তো (৯৮ রানে অলআউট) চিন্তা কখনোই করিনি। তবে আমরা পুরো সিরিজেই প্রক্রিয়াটা চালিয়ে যাওয়ার যাওয়ার চেষ্টা করেছি। আজকে যখন লম্বা সময় ধরে ভালো বোলিং করেছি, তখন উইকেট পড়েছে। এরকম আশা নিয়ে আসিনি যে ১০০ বা ৯৮ রানে অল আউট করে দেব। পরিকল্পনা ছিল ভালো জায়গায় লম্বা সময় বোলিং করা। খুবই গর্ববোধ করছি, আগের দুই ম্যাচ হারার পর আজকে ওরা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।'

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত