সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার শ্রমিক লীগের সদস্য মোতালেব হোসেন সরকারের বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে আহত ফজলুল হক ফজলু (৪৫) মারা গেছেন। আজ শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। কুষ্টিয়া জেলার মিনপাড়া গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অস্ত্র মামলাসহ মোট ৬টি মামলা রয়েছে।
আহত জিন্নাহ আলী চৌহালী উপজেলার সদিয়া চাঁদপুর গ্রামের তাছের আলীর ছেলে। তাকে কোথায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তা জানা যায়নি। গত ১৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে বেলকুচি উপজেলার পৌর সদরের সুবর্ণসাড়া গ্রামে বেলকুচি উপজেলা শ্রমিক লীগের সদস্য মোতালেব হোসেন সরকারের বাড়িতে এ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসি জানায়, গত মঙ্গলবার দুপুরে বিকট শব্দ শোনার পর মোতালেবের বাড়ির সামনে স্থানীয় লোকজন ভিড় করে। কিন্তু কোনো লোকজনকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে কালো মাইক্রোবাসে করে দুই জন আহতকে নিয়ে যাওয়া হয়। তারা বলেন, বোমা তৈরি করতে গিয়ে এ বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে আমরা ধারণা করছি।
এ বিষয়ে বেলকুচি পৌরসভার মেয়র সাজ্জাদুল হক রেজা বলেন, বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছে মোতালেবের বাড়িতে। মোতালের নৌকার প্রার্থী আব্দু মমিন মণ্ডল এমপির সমর্থক। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মোতালেবের বাড়িতে বোমা তৈরি করছিল আহতরা। আহত ফজলুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে।
এদিকে, এলাকাবাসি এটাকে বোমা বিস্ফোরণ দারি করলেও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা এটা প্রেশারকুকার বিস্ফোরণ।
এ বিষয়ে নিহত ফজলুর ভাই মজনু বলেন, গত ২০ ডিসেম্বর জানতে পারি আমার ছোট ভাই ফজলু বোমা হামলায় আহত হয়েছে। খবর পেয়ে আমরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাই। সেখানে গিয়ে জানতে পারি বেলকুচির মোতালেবের বাড়িতে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে ফজলু আহত হয়েছে। তাকে একদিন অন্যত্র লুকিয়ে রাখে মোতালেব। পরে তার অবস্থার চরম অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। শনিবার ভোরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার ভাই মারা গেছে। তিনি আরও বলেন, ফজলু দীর্ঘদিন রাজবাড়ীতে থাকতো।
এ বিষয়ে নিহত ফজলুর মেয়ের জামাই রকি বলেন, সকালে মারা গেছে, সন্ধ্যাতেও মরদেহ আমাদের দেওয়া হয়নি। আমরা খুব কষ্টে আছি। এখনও মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ‘মারা যাওয়া ব্যক্তির শরীরে আঘাতের যে চিহ্ন রয়েছে তাতে বোঝা যাচ্ছে বোম বিষ্ফোরণে তিনি আহত হয়েছিলেন। চিকিৎসক তার চিকিৎসাপত্রে লিখেছেন বোমা বিস্ফোরণে তিনি মারা গেছেন। এ ঘটনায় মামলা হলে সিরাজগঞ্জের সংশ্লিষ্ট থানায় হবে। আমরা সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। ওনারা এখনও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।’
অভিযুক্ত শ্রমিকলীগ নেতা মোতালেব সরকার বলেন, ‘আমরা নৌকার ভোটের জন্য কাজ করছি। মঙ্গলবার দুপুরে বাড়িতে রান্নার সময় প্রেশার কুকার বিস্ফোরিত হয়। এতে কেউ আহত হয়নি।
বোমা বিস্ফোরণে একজন নিহতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই ব্যক্তিকে আমি চিনি না।’
বেলকুচি থানার ওসি মো: আনিছুর রহমান জানান, ফজলুর মৃত্যুর বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে তদন্তপূর্ব আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী আব্দুল মমিন মণ্ডলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বেলকুচি থানা সার্কেলের এএসপি জন রানা বলেন, ঘটনার পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে জানতে পারে রান্নার সময় প্রেশার কুকার বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে কোনো আলামত দেখাতে পারেনি বাড়ির মালিক। আবার বোমা জাতীয় বস্তুর বিস্ফোরণের আলামতও মেলেনি। যে কালো মাইক্রোবাসের কথা বলা হচ্ছে, সেটি এক প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণার গাড়ি। সেটিতে তল্লাশি করেও আলামত পাওয়া যায়নি। তবে বেলকুচি থানা পুলিশ শব্দের বিষয়টি নিয়ে একটি সাধারণ ডায়রী করেছে। আমরা এ বিষয়ে দ্রুত তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেবো।
