পাকিস্তানের সাবেক ও মুসলিম বিশ্বের প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল বুধবার (২৭ ডিসেম্বর)। এ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ সিন্ধু।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, সিন্ধুর তত্ত্বাবধায়ক প্রধান বিচারপতি (অব.) মকবুল বাকারের মুখপাত্র বুধবার প্রদেশজুড়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন। এ বিষয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বেনজির ভুট্টোর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রাদেশিক সরকার নিয়ন্ত্রণাধীন সকল অফিস, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, করপোরেশন ও স্থানীয় কাউন্সিলে সরকারি ছুটি কার্যকর করা হবে।
সিন্ধু সরকার এর আগে পাকিস্তানের স্থপতি মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর জন্মবার্ষিকী এবং বড়দিন উপলক্ষে ২৫ ডিসেম্বর সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিল।
উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সালের ২১ জুন করাচিতে জন্মগ্রহণ করেন বেনজির ভুট্টো। পাকিস্তানের পুরুষশাসিত রাজনীতিতে নিজেকে সফল নারীনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। ধর্মনিরপেক্ষ ও আধুনিক পাকিস্তান গঠনে গৃহীত কর্মসূচির কারণে রক্ষণশীল গোষ্ঠীর কাছ থেকে প্রাণনাশের হুমকি পেলেও পিছু হটে যাননি।
বেনজির ভুট্টো হার্ভার্ড ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন। ১৯৭৭ সালে তার বাবা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো ক্ষমতাচ্যুত হলে বেনজির ভুট্টো দেশে ফিরে যান। প্রতিপক্ষের এক নেতাকে খুনের অভিযোগে ১৯৭৯ সালে জুলফিকার আলী ভুট্টোর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। এরপর মাত্র ২৬ বছর বয়সে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) দায়িত্ব গ্রহণ করেন বেনজির ভুট্টো।
পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে পিপিপি জয়ী হলে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন তিনি। তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মাত্র ২০ মাস পর সংবিধান লঙ্ঘন ও দুর্নীতির অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর ১৯৯৩ সালের নির্বাচনে বেনজির ভুট্টো আবারও জয়লাভ করেন এবং দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে তাকে পুনরায় বরখাস্ত করা হয়।
২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিতে ২০০৭ সালের অক্টোবর মাসে আট বছরের স্বেচ্ছা নির্বাসন শেষে পাকিস্তানে ফিরে যান বেনজীর ভুট্টো। এর দুই মাস পর ২০০৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর আত্মঘাতী বোমা হামলায় বেনজির ভুট্টো নিহত হন। এই বোমা হামলায় মোট ২৪ জন নিহত হন, আহত হন প্রায় ৭০ জন। রাতে বেনজির ভুট্টোকে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং পরের দিন নিজ শহর গার্দী খুদা বখশে বাবার কবরের পাশে তাকে সমাধিস্থ করা হয়।
