চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানায় পুলিশ হেফাজতে অবসরপ্রাপ্ত দুদক কর্মকর্তা ছৈয়দ মোহাম্মদ শহীদল্লাহর মৃত্যুর ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনের মামলার আসামি মো. জসীম উদ্দীনকে (৩৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) রাতে বাকলিয়া থানার রাহাত্তালপুল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্টো ইউনিটের পরিদর্শক মো. ইলিয়াস খাঁন।
তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৬ অক্টোবর দুদকের সাবেক এই কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনায় চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. বেগম জেবুননেছার আদালতে তার স্ত্রী ফৌজিয়া আনোয়ার চান্দগাঁও থানার ওসিসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে মামলাটি চান্দগাঁও থানাকে এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করতে নির্দেশ দেন আদালত। পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার আসামিরা হলেন-চান্দগাঁও থানার তৎকালীন ওসি খাইরুল ইসলাম, একই থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ইউসুফ, সোহেল রানা, থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মবিনুল হক, চান্দগাঁও থানা এলাকার বাসিন্দা এস এম আসাদুজ্জামান (৫২), মো. জসীম উদ্দীন (৩৭), মো. লিটন (৪৮), রনি আক্তার তানিয়া (২৬) ও কলি আক্তার (১৯)।
সুত্র জানায়, আদালতে এক নারীর দায়ের করা মামলায় গত ৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাবেক দুদক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ হেফাজতে মারা যায় দুদকের সাবেক কর্মকর্তা শহীদুল্লাহ। তবে পুলিশের দাবি, শহীদুল্লাহ হার্টের রোগী ছিলেন। সেই রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে চান্দগাঁও থানার ওসির কক্ষে বসানো হয়। এ সময় তার সাথে ছিলেন পরিবারের কয়েকজন সদস্যও। শহীদুল্লাহ হঠাৎ অসুস্থবোধ করলে পরিবারের এক সদস্য তাকে ইনহেলার স্প্রে দেন। অবস্থার অবনতি হলে তার সঙ্গে যাওয়া ছোট ভাই শহীদুল্লাহকে পাঁচলাইশ এলাকার বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শহীদুল্লাহর বড় ছেলে আসিফ শহীদের অভিযোগ, বাসা থেকে তার বাবাকে টেনেহিঁচড়ে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। থানায় নিয়ে যাওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থবোধ করলে তাকে ইনহেলার স্প্রে করতে দেয়নি পুলিশ। থানা ভবনেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তার বাবা।
