বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘এক তরফার ডামি নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ একটি হাস্যকর চাপাবাজির ডামি ইশতেহার ঘোষণা করেছে। ইশতেহারে যা বলে তার সঙ্গে বাস্তবতার মিল থাকে না। কারণ আওয়ামী লীগ যা বলে, করে তার উল্টোটা। এবার বলছে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়বে। আসলে স্মার্ট বাংলাদেশ হলো স্মার্ট লুটপাট, স্মার্ট শ্মশান।’
আজ শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারের মূল কথা ছিল ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’। আসলে গত ৫ বছর তারা তাদের নিপীড়ন, খুন-গুম-দুর্বৃত্তায়ন, দুর্নীতি, লুটপাট আর দুঃশাসনের অগ্রযাত্রা হয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে দিন বদলের সনদ হিসেবে ঘোষণা করে গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ ও তাদের লোকজনের দিন বদল করেছে। দলীয়করণের আরেক চূড়ান্ত রূপ প্রশাসনের প্রতিটি স্তর। দেশটা যেন একটি দলের বাকিরা সব বহিরাগত। জীবনযাত্রাকে করে তুলেছে বিভীষিকাময়।’
তিনি বলেন, ‘এবারে যে ইশতেহার ঘোষণা করেছে তার মূল উপজীব্য বিষয় হলো ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’। তাদের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ হলো স্মার্ট লুটপাট, স্মার্ট শ্মশান। এবারের ইশতেহারে দুর্নীতিবাজদের অর্থ-সম্পদ বাজেয়াপ্তের অঙ্গীকার করেছে দুর্নীতিবাজ সরকার। তার মানে এবার যতটুকু লুটপাট করে খেতে বাকি ছিল সেটুকুও চেটেপুটে খাওয়ার টার্গেট নিয়েছে। কারণ শেখ হাসিনার মজ্জাগত স্বভাব হলো তিনি যা বলেন করেন ঠিক তার উল্টোটা।’
‘৯৯ নয়, ১০০ শতাংশ নিশ্চিত করতে পারি এবার আর আগের রাতে ভোট হবে না। এ জন্য অনেক কেন্দ্রই ব্যালট পেপার সকালে যাবে’-গত ২৬ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল মতবিনিময় সভায় যে বক্তব্য রেখেছেন সে বিষয়ে রিজভী বলেন, ‘সিইসি স্বীকার করেছেন যে, ২০১৮ সালে রাতে ভোট হয়েছিল। তার এমন বক্তব্যের পর রাতের ভোট নিয়ে এতোদিন যে বিতর্ক ছিল তা বন্ধ হবে। শুধু সিইসি নয়, ৭ জানুয়ারি নির্বাচনকে সামনে রেখে বহু এলাকায় ডামি প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরাই প্রকাশ্যে স্বীকার করছেন কিভাবে ২০১৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর রাতে ভোট ডাকাতি করেছিল।’
তিনি বলেন, ‘এবার দেশের সমস্ত সচেতন মানুষ জানেন, দিনের বেলায় প্রকাশ্যে ৫৭ সেকেন্ডে ৪৩ টি সিল মারার ভোট হবে। প্রার্থী সবাইতো এক দলীয়-‘আমরা আর মামুরা’। জেলায় জেলায় আগে ব্যালট পেপার পাঠানোর মানে নৌকায় সিল মেরে আগেই বাক্সটা ভরে সকালে কেন্দ্রে পাঠাতে সুবিধা হবে। তারপর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ঘোষণা মতো ৭০ পার্সেন্ট ভোট কাস্ট হয়েছে দেখিয়ে গণভবনের তালিকা অনুযায়ী ফলাফল ঘোষণা করবে।’
সিইসিকে উদ্যোগে করে রিজভী বলেন, ‘যদি ন্যূনতম মনুষ্যত্ব থাকে তাহলে এই প্রহসনের পাতানো ডামি নির্বাচন বন্ধ করুন। পদত্যাগ করুন। নইলে যারা রাতের ভোট করেছিলেন তাদের মতো আপনাদেরও বিচার একদিন হবেই।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘অবৈধ ক্ষমতার মেয়াদ বাড়াতে পূর্বনির্ধারিত ফলাফল ঘোষণার পাতানো ডামি নির্বাচন ঘিরে দেশে এক অকল্পনীয় ভয়ংকর অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে। বন্দুক-পিস্তল, রামদা, রড, জিআই পাইপ, হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্র উঁচিয়ে প্রকাশ্যে মিছিল করছে তারা। নৌকা-ডামি, আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, রাষ্ট্রযন্ত্র প্রিজাইডিং অফিসার সব আওয়ামীময়-একাকার হয়ে গেছে। পুরো মাফিয়াচক্র গলদঘর্ম হয়ে পড়েছে ভোটার হান্টিং মিশনে। কিন্তু ভোট কেন্দ্রে ভোটার আসবে এমন নিশ্চয়তা পাচ্ছে না।’
রিজভী বলেন, ‘সরকার যতো যাই করুক-কেউ ভোট কেন্দ্রে যাবে না। অনিবার্য পতন অপেক্ষা করছে শেখ হাসিনা এবং মাফিয়াচক্রের জন্য। ৭ জানুয়ারি জনগণ শেখ হাসিনাকে লাল কার্ড দেখিয়ে বিদায় করবে।’
