তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন শমসের মবিন চৌধুরী ও মহাসচিব তৈমূর আলম খন্দকারকে ‘জাতীয় বেইমান’ আখ্যায়িত করেছেন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দলটি থেকে ৬০টি আসনে প্রার্থী হওয়া নেতারা। তারা বলেছেন, প্রার্থীদের মাঠে নামিয়ে শমসের ও তৈমূর যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। এ ছাড়া শমসের, তৈমূর ও তৃণমূল বিএনপির নির্বাহী চেয়ারপারসন অন্তরা হুদা দলের তহবিল থেকে টাকা তছরুপ করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন। ‘কিংস পার্টি’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া দলটির এ নেতারা গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় এসব কথা বলেন।
তারা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলীয় সংকট সমাধান করে নির্বাচনের মাধ্যমে তৃণমূল বিএনপি যেন সংসদের বিরোধী দল হতে পারে, সেজন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও তার হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। ‘তৃণমূল বিএনপির সব প্রার্থীর সঙ্গে মতবিনিময় ও আলোচনা সভা’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে দলের কো-চেয়ারপারসন কেএ জাহাঙ্গীর মাজমাদার এবং সভাপতি হিসেবে দলের ভাইস চেয়ারপারসন মেজর (অব.) ডা. শেখ হাবিবুর রহমানের অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও তারা আসেননি। সভায় বিভিন্ন আসনে তৃণমূলের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-১৫ আসনে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী খন্দকার এমদাদুল হক ওরফে সেলিম। নির্বাচনে তৃণমূল বিএনপির ১৩৭ জন প্রার্থী তাদের সঙ্গে আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দলের চেয়ারপারসন ও মহাসচিব আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখছেন না। আমাদের সুবিধা-অসুবিধা, কীভাবে আমরা নির্বাচন করছি, আমাদের কী প্রয়োজন, সে ব্যাপারে কোনো খোঁজখবর রাখছেন না।’
দলের শীর্ষ দুই নেতা সবার সঙ্গে আলোচনা করে প্রার্থী দিলে তৃণমূল বিএনপি ৩০০ আসনেই প্রার্থী দিতে পারত এবং অন্তত ১০০ আসনে জয়ী হয়ে সংসদে বিরোধী দল হতে পারত বলে দাবি করেন খন্দকার এমদাদুল হক। তিনি বলেন, ‘ওই দুই জাতীয় বেইমানের কারণে এটা হয়নি। তারা তৃণমূল বিএনপির যে অবস্থা করেছেন, তাতে আমরা কষ্ট পাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আমরা আমাদের দলের বিষয়ে আলোচনা করতে চাই।’
সভায় যশোর-৫ আসনে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী মেজর (অব.) আবু নসর মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, ‘দেশে সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে আমরা যে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছি এবং করছি, তাতে বাধা তৈরি করেছেন দুই বেইমান শমসের মবিন ও তৈমূর আলম। নজিরবিহীন অসমন্বয় করে আমাদের উলঙ্গ করে তারা মাঠে ছেড়ে দিয়েছেন।’
এমন ‘অন্যায়ের’ বিচার করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তৃণমূল বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘শমসের, তৈমূর ও অন্তরা হুদা দলের তহবিল থেকে টাকা তছরুপ করে আমাদের উলঙ্গ করে নির্বাচনী মাঠে যে তামাশা করছেন, জাতির কাছে তার হিসাব দিতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে আমরা কঠোর হতে বাধ্য হব। ৬০ জন প্রার্থীকে নিয়ে আমি আমরণ অনশনে যেতে বাধ্য হব।’
শমসের মবিন ও তৈমূর আলমকে ‘যুগশ্রেষ্ঠ মীরজাফর’ আখ্যায়িত করেন নেত্রকোনা-৫ আসনে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী আবদুল ওয়াহাব হামিদী।
শমসের মবিন ও তৈমূর আলম বিএনপির সঙ্গে আঁতাত করেছেন বলে অভিযোগ করেন গোপালগঞ্জ-২ আসনে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী জামাল উদ্দিন শেখ।
