গাজা যুদ্ধ থামাতে মিসরের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গতকাল শুক্রবার কায়রো পৌঁছেছেন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের প্রতিনিধিদল। গত বৃহস্পতিবার মিসর এ সংক্রান্ত প্রস্তাব তুলে ধরে জানায়, কায়রো প্রস্তাবটির ওপর ইসরায়েল ও হামাসের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় ১৮৭ জন ফিলিস্তিনি।
গত ৭ অক্টোবর হামাস অতর্কিতভাবে ইসরায়েলে প্রবেশ করে হামলা শুরুর পর প্রায় ১২ সপ্তাহ ধরে চলছে যুদ্ধ। এতে ২১ হাজারের ওপর ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। মাঝে এক দফা যুদ্ধবিরতি হলেও নতুন করে আগ্রাসন শুরু করে ব্যাপক নৃশংসতা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। মিসরের প্রস্তাব নিয়ে হামাস প্রতিক্রিয়া জানালেও ইসরায়েল এ নিয়ে এখনো কিছু বলেনি।
এর মধ্যে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তার দপ্তর জানিয়েছে, দেইর-আল বালাহ এবং খান ইউনিসে ক্রমবর্ধমান আক্রমণের কারণে দক্ষিণে রাফায় নতুন করে এক লাখ ফিলিস্তিনি এসে ভিড় করেছেন। গতকাল ইসরায়েল খান ইউনিসকে কেন্দ্র করে হামলার তীব্রতা বাড়াতে থাকে। তাদের দাবি, এতে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। হামাস দাবি করেছে, ইসরায়েলের হামলায় রাফাহর শাবুরা আশ্রয়শিবিরে কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয় যার মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আবার গতকাল ইসরায়েলি বাহিনী জানায়, এখন পর্যন্ত চলতি যুদ্ধে গাজায় তেলআবিব মোট ১৬৮ জন সেনা হারিয়েছে।
মিসরের উদ্যোগ সম্পর্কে হামাসের একটি সূত্র জানায়, মিসর ইসরায়েলি জিম্মিদের ছাড়ার বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তির কথা তুলে ধরেছে প্রস্তাবে। আর ক্রমান্বয়ে ধাপে ধাপে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ করার কথা রয়েছে এতে। স্বাধীনতাকামী সংগঠনটি চায়, গাজা থেকে যেন সম্পূর্ণভাবে সেনা প্রত্যাহার করে নেয় ইসরায়েল।
ইসরায়েলের হামলা নস্যাতের দাবি সিরিয়ার
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইসরায়েল কর্তৃক চালানো বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে সিরিয়া। সিরিয়ার বিমানবাহিনী জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে এই হামলা করে ইসরায়েলি বাহিনী। রাতে অধিকৃত গোলান মালভূমির দিক থেকে রাজধানী দামেস্কের দক্ষিণ প্রান্তে হামলা করে ইসরায়েল। এ সময় বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে সিরিয়ার বাহিনী। সিরিয়ার বাহিনী জানায়, ইসরায়েলি এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। দামেস্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পরের দিনই এই হামলা করল ইসরায়েল।
