প্রাণের ভিড় বাড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে কুয়াশা উৎসব জাককানইবির

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:১৯ এএম

কুয়াশা উৎসব জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একেবারেই নিজস্ব উৎসব। কুয়াশা উৎসবের যাত্রা শুরু হয় ২০১৯ সালে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রচন্ড কুয়াশা পড়ে, যার মাধ্যমে এর ধারণা তৈরি হয় এবং এই কুয়াশাকে ঘিরে এক নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয় কুয়াশাকে উদযাপনের জন্য। ‘কুয়াশা উৎসব ১৪৩০’-এর আগেও দুটি উৎসব হয়, ‘কুয়াশা উৎসব ১৯’ এবং ‘কুয়াশা উৎসব ১৪২৮’। এবারের কুয়াশা উৎসব ১৪৩০ ছিল এর তৃতীয় আয়োজন।

কুয়াশা উৎসব মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, সবার উৎসব এবং এই উৎসবটি আয়োজন করা হয় সম্পূর্ণ নিজেদের অর্থায়নে। বাইরের কোনো স্পনসর ছাড়া। ফলে উৎসবের ভাবমূর্তি ঠিক থাকে। উৎসবটি আয়োজনে কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ছাত্রছাত্রী। মানসিক এবং কায়িক দুই ধরনের শ্রম দিয়েই শিক্ষার্থীরা এই উৎসব আয়োজন করে। উৎসবের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে আয়োজন সম্পন্ন করা পর্যন্ত সব কাজ শিক্ষার্থীরা করে। এবং এই উৎসব আয়োজনে সবার স্বেচ্ছায় কাজ করার মনোভবের কারণেই এই আয়োজন পরিপূর্ণতা পায়।

কুয়াশা উৎসব ১৪৩০-এ ছিল বিভিন্ন ধরনের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা। চিত্রকলা প্রদর্শনী, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। এ ছাড়াও ছিল সাংস্কৃতিক বিভিন্ন আয়োজন। চিত্রকলা প্রদর্শনীর জন্য চিত্রকলার আহ্বান করা হয়। আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে ‘ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি ক্লাব’। চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে ‘ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ’ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। কুয়াশা উৎসব ১৪৩০-এর স্লোগান ছিল, ‘হারাবার আগে পায়ে মাখো শিশির/ কুয়াশার মাঠে বাড়ুক প্রাণের ভিড়।’

এবারের কুয়াশা উৎসব সেজেছিল বিভিন্ন ধরনের ইনস্টলেশন আর্ট এবং ক্রাফটের বিভিন্ন কিছু দিয়ে। ক্যাম্পাসের নজরুল ভাস্কর্য থেকে শুরু হয়ে শেখ রাসেল কেন্দ্রীয় মাঠের কিছুটা অংশ, জয়ধ্বনি মঞ্চ এসব জায়গায় মিলে এবারের কুয়াশা উৎসব সাজানো হয়। এবারের কুয়াশা উৎসবের মূল বিষয় ছিল গ্রামবাংলার জনজীবনের সঙ্গে কুয়াশার মেলবন্ধন। এবারের মূল মঞ্চ সাজানো হয়েছিল একটি গ্রামের আদলে। মাঠের চারপাশে ছিল বিভিন্ন ধরনের ইনস্টলেশন আর্ট। নাগরদোলা, পিঠার দোকান, জিলাপির দোকান এবং চায়ের দোকান। এ ছাড়াও আদিবাসী জোনে ছিল তাদের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাবারের দোকান।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ এবং এলাকাবাসী এই দুই দিনব্যাপী উৎসব উপভোগ করেছেন। এই উৎসব প্রাণের ভিড় বাড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।

শিক্ষার্থী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত