বিশ্বের প্রথম ক্ষুদ্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩, ০২:৪৬ এএম

বিশ্বের প্রথম স্থলভিত্তিক স্মল মডিউলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর) বা ক্ষুদ্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু করেছে রাশিয়া। ২০২৮ সাল নাগাদ কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে বলে রুশ রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রসাটমের কর্মকর্তারা আশা করছেন।

আন্তর্জাতিক পরমাণুশক্তি সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রিঅ্যাক্টরগুলোকে ছোট মডিউলার রিঅ্যাক্টর, অর্থাৎ এসএমআর বলে আখ্যায়িত করেছে। বড় ক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় এ ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা অনেক বেশি উন্নত। দুর্ঘটনার আশঙ্কাও অনেক কম। এরপরও কোনো কারণে এটি দুর্ঘটনায় পতিত হলে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে তাপ বর্জনের ব্যবস্থা আছে।

গতকাল শনিবার রসাটমের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাশিয়ার দূরপ্রাচ্য আর্কটিক মহাসাগর উপকূলে ইয়াকুতিয়া অঞ্চলের স্থলভাগে নির্মাণাধীন এই ক্ষুদ্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ব্যবহৃত হবে সর্বাধুনিক আরইটিএম-২০০এন রিঅ্যাক্টর।

সেন্ট পিটার্সবার্গে রসাটমের যন্ত্রপ্রকৌশল শাখার অধীন একটি কারখানায় এসএমআরটির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নির্মাণ শুরু হয়েছে। স্টেইনলেস স্টিল থেকে নির্মিত ১৬৫ টনের অধিক যন্ত্রপাতির মেটালার্জিক্যাল ট্রিটমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে ইতিমধ্যে। 

রসাটম যন্ত্রপ্রকৌশল শাখার প্রধান ইগোর কতোভ বলেন, ‘ক্ষুদ্র পারমাণবিক কেন্দ্রের চাহিদা ক্রমান্বয়েই বাড়ছে। ক্ষুদ্র রিঅ্যাক্টরগুলোকে বিশ্বে পরমাণু শক্তির উন্নয়নের ক্ষেত্রে অন্যতম সম্ভাবনাময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। রাশিয়া এ ক্ষেত্রেও তাদের নেতৃত্ব বজায় রাখতে ইচ্ছুক এবং পরীক্ষামূলক ইউনিটের পরিবর্তে ক্ষুদ্র বাণিজ্যিক রিঅ্যাক্টর উৎপাদনে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে।’

স্থলভিত্তিক এই ক্ষুদ্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিটের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে এটি দূরবর্তী ইয়াকুতিয়া অঞ্চলের এনার্জি সুরক্ষা এবং আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করবে। বিশ্বে এ-জাতীয় প্রথম বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে একটি পাওয়ার ইউনিট থাকছে এবং ইউনিভার্সাল নিউক্লিয়ার আইসব্রেকারে ব্যবহৃত আধুনিক আরআইটিএম-২০০ রিঅ্যাক্টরের ভিত্তিতে তৈরি আরআইটিএম-২০০এন রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। এর তাপ উৎপাদন ক্ষমতা ১৯০ মেগাওয়াট এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫৫ মেগাওয়াট। এই রিঅ্যাক্টরের আয়ুষ্কাল ৬০ বছর। একবার জ্বালানি লোড করা হলে তা দিয়ে চলবে টানা ৫ থেকে ৬ বছর পর্যন্ত।

তেল, গ্যাস ও কয়লার বাজার অস্থিতিশীল এবং এসব জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বাড়তে থাকা এবং পরিবেশদূষণের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে পরমাণুর ব্যবহার বাড়ছে। বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি এসএমআর রিঅ্যাক্টর একটি সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। দূরবর্তী ও দুর্গম অঞ্চলে বিরতিহীনভাবে দূষণমুক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অনেকেই এই প্রযুক্তি ব্যবহারের চিন্তা করছে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে এর ব্যবহার আরও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকেই।

রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে নির্মাণাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিদ্যুৎ প্রকল্পের জেনারেল ডিজাইনার ও কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করছে রসাটম করপোরেশনের প্রকৌশল শাখা। এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের দুটি ইউনিটে থাকছে ৩+ প্রজন্মের রুশ ভিভিইআর রিঅ্যাক্টর, যেগুলো সব আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চাহিদা পূরণে সক্ষম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত