জামালপুর-২

জাপা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে কোণঠাসা আওয়ামী লীগ

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:১১ পিএম

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনে তিনবারের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো.ফরিদুল হক খান দুলাল। তিনি ইসলামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। তবে এবার নিজ দল ও এলাকার অনেকেই তার পরিবর্তন চাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ শীর্ষ নেতা দলীয় তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীর হয়ে কাজ করছেন। এ অবস্থায় নৌকার প্রার্থী ফরিদুল হক খান দুলালের বিজয় কঠিন হবে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।

এদিকে উচ্চ আদালত থেকে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এস এম শাহীনুজ্জামান (কাঁচি প্রতীক)। নির্বাচনের মাঠে তিনি টিকে যাওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনী উত্তাপ সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। শেষ পর্যন্ত এস এম শাহীনুজ্জামান ও ফরিদুল হক খান দুলাল এবং জাতীয় পার্টির মোস্তফা আল মাহমুদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন অনেক দলীয় নেতাকর্মী। তবে আওয়ামী লীগ থেকেই চার প্রার্থী হওয়ায় এখানে জাতীয় পার্টি হেভিওয়েট প্রার্থী মোস্তফা আল মাহমুদ জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। এ আসনে শেষ পর্যন্ত ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় ভোটাররা। যার ফলে এবারের ভোটের মাঠে জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফরিদুল হক খান দুলাল।

এ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফরিদুল হক খান দুলাল (নৌকা প্রতীক) ও এস এম শাহীনুজ্জামান (কাঁচি প্রতীক) ছাড়াও মাঠে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের দুই উপদেষ্টা মণ্ডলী সদস্য মো. জিয়াউল হক (ঈগল প্রতীক) ও মো.শাহাজাহান আলী মন্ডল (ট্রাক প্রতীক), জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তফা আল মাহমুদ (লাঙ্গল প্রতীক) এবং তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী মো. হোসেন রেজা বাবু (সোনালী আঁশ প্রতীক)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাঁচ প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকলেও তৃণমূল বিএনপির হোসেন রেজা বাবুর তেমন কোনো প্রচারণা নেই। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলালের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জাতীয় পার্টির মোস্তফা আল মাহমুদ ও এস এম শাহীনুজ্জামান সমানতালে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহর থেকে গ্রামে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। 

দলীয় নেতা-কর্মী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনে বিএনপি না থাকায় টানা তিনবারের সংসদ সদস্য ফরিদুল হক খান দুলাল এবার সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার কথা ছিল। কিন্তু ‘হেভিওয়েট’ স্বতন্ত্র ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন তিনি। এবারই প্রথম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তরুণ নেতা এস এম শাহীনুজ্জামান। দলীয় মনোনয়নের জন্য অনেক আগে থেকেই নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ, সভা, সমাবেশ, উঠান বৈঠকসহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন তিনি। খুব অল্প সময়ের মধ্যে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেন। কিন্তু যাচাই-বাছাইয়ে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়। ওই সময় তিনি নির্বাচনী মাঠে না থাকায় নির্বাচনে কোনো উত্তাপ ছিল না। পরে ২১ ডিসেম্বর উচ্চ আদালতের আদেশে প্রার্থিতা ফিরে পান এস এম শাহীনুজ্জামান। পরে ২৩ ডিসেম্বর সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তাকে কাঁচি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। তার প্রার্থিতা ফেরত পাওয়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। তার সঙ্গে দলের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে রয়েছেন। এ ছাড়া ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর বিরোধী অনেক প্রভাবশালী নেতাও গোপনে তাকে সমর্থন দিচ্ছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম জামাল আবদুন নাছের বলেন, ‘ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর নানা কর্মকাণ্ডের কারণে অনেক আগে থেকেই এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য দলের প্রথম সারির নেতারা সক্রিয় ছিলেন। দলের তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করছেন অনেক নেতাকর্মী। সবচেয়ে বড় বিষয়, এবার ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে বেশির ভাগ ভোটার চাচ্ছেন না।’

এস এম শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘যে এলাকায় যাচ্ছি, তরুণ থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ নারী-পুরুষ ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। এ আসনের ভোটাররা এবার পরিবর্তন চান।’

মো. ফরিদুল হক খান দুলাল বলেন, ‘জাতীয় পার্টি ও তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী আমার ভোটে কোনো প্রভাব ফেলতে পারবেন না। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নৌকার বাইরে ভোট দিবে না। অনেকেই আমার বিরোধিতা করছেন, এটাও ঠিক না। উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমার সাথে রয়েছে। এ পর্যন্ত মাত্র ১৩ জন নেতাকর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থীর হয়ে কাজ করছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ওই নেতাকর্মীরা নৌকার ভোট নষ্ট করতে পারবেন না। জয়ের বিষয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী।’

জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, ‘যেখানেই যাচ্ছি, ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। এ আসনে আওয়ামী লীগের তিন স্বতন্ত্রসহ চারজন প্রার্থী রয়েছে। একই দলের চারজন প্রার্থী থাকায় আমার জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ নিশ্চিত।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত