শ্রমিক অধিকার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক মেমোরেন্ডাম এরই মধ্যে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে শঙ্কা সৃষ্টি করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। মার্কিন বাজারে প্রবেশের সীমাবদ্ধতার সম্ভাবনার কারণে এমন শঙ্কা দেখা দিচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘গ্লোবাল ইকোনমিক স্লোডাউন, বাংলাদেশ’স অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ডিসেন্ট ওয়ার্ক’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মোমেন।
সচিব বলেন, ‘এটি কাঁচামাল সোর্সিং এবং অন্যান্য দেশে পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক পরিণতি নিয়ে আসতে পারে। এ ধরনের বিধিনিষেধ প্রয়োগ করা হলে আমাদের কর্মীদের কাজের অবস্থার উন্নতির জন্য এখন পর্যন্ত যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, তা ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। শিল্পের বিরুদ্ধে যেকোনো বিধিনিষেধমূলক ব্যবস্থা কারখানা বন্ধ এবং নারীকর্মীদের চাকরি হারানোর দিকে ধাবিত করবে। এটি লিঙ্গসমতার এসডিজি অর্জনের জন্য দেশের প্রচেষ্টাকে লাইনচ্যুত করবে। সমাজে চরমপন্থা ও উগ্রবাদের জন্ম দেবে। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন এবং বাণিজ্য সুবিধা ক্রমান্বয়ে উত্তোলন আমাদের আরএমজি রপ্তানির জন্য আরও চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।’
মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘শিল্পের প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি পোশাকশ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে। সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রতি অঙ্গীকার প্রতিফলিত করে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইন ও প্রবিধান বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্থরতা উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে এবং আমাদের কর্মীদের কল্যাণ রক্ষার ব্যবস্থাগুলোকে পুনর্মূল্যায়ন এবং পুনর্নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।’
শিল্পের টেকসই সাফল্য এবং আমাদের কর্মীদের মঙ্গল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে ওঠায় সহযোগিতা করা উদ্যোক্তা, ক্রেতা, উন্নয়ন অংশীদার, আমদানিকারক দেশ ও অঞ্চল, বিশেষজ্ঞ এবং অন্য অংশীজনদের সমন্বিত দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পোশাকশিল্প সাফল্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শিল্পটি শুধু অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতেই অবদান রাখেনি বরং চার দশকেরও বেশি সময় ধরে হাজার হাজার নারীর কর্মসংস্থানের সঙ্গে সামাজিক উন্নয়নকেও ত্বরান্বিত করেছে। যার ফলে অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির প্রসার ঘটেছে।’
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে মাসুদ বিন মোমেনসহ উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সচিব মো. এহছানে এলাহী।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আবু বকর সিদ্দিক খান এবং সভাপতিত্ব করেন বিআইআইএসএসের চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত এ এফ এম গওসোল আযম সরকার। বিআইআইএসএসের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবির সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্যানেল আলোচনায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সহসভাপতি মো. আখতার হাসান অপূর্ব, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ঢাকার (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান তানভিউর রহমান এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান।
