বিমানে ভ্রমণের সময় স্মার্টফোন বা ল্যাপটপকে ‘ফ্লাইট মোড’-এ রাখতে বলা হয়। তবে এই ফ্লাইট মোড কেন ব্যবহার করতে হয় তা অনেকেরই অজানা। চলুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত-
বিমান চলাচলে বাড়তি ঝুঁকি এড়াতে মোবাইল ফোন ফ্লাইট মোডে রাখার অনুরোধ করা হয়। বিমান চলাচল, গ্রাউন্ড স্টেশনের সঙ্গে পাইলটের কিংবা এক বিমানের পাইলটের সঙ্গে অন্য বিমানে পাইলটের যোগাযোগ ব্যবস্থা রেডিও সেবার ওপর নির্ভরশীল। ১৯২০ এর দশক থেকেই নিরাপদ বিমান চলাচলের জন্য এই রেডিও যোগাযোগের মান ধারাবাহিকভাবে বাড়ানো হয়েছে।
৬০ বছর আগে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতো, বর্তমানে তার তুলনায় অত্যন্ত উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যক্তিগত ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস থেকে বিমানের চলাচল ও যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো একই তরঙ্গের সিগন্যাল উৎপন্ন হতে পারে, যা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ঝুঁকি তৈরি করে।
ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি)-র দাবি সেলফোন বা ওই ধরনের ডিভাইসগুলির রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি বিমানের নেভিগেশন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি করতে পারে। এই কারণে, ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) বিমান উড়ানের সময় এবং অবতরণের সময় কোনও ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে নিষেধ করে।
ফ্লাইট মোড সাময়িকভাবে ফোন বা ল্যাপটপের ডেটা ট্রান্সমিটার এবং রিসিভারের সিগন্যালগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। অর্থাৎ ডিভাইসে কোনও ডেটা পাঠানো বা গ্রহণ করা যায় না। ফলে ব্যবহারকারী কোনও কল করতে, টেক্সট মেসেজ করতে বা মেল পাঠাতেও পারবেন না।
