বছরের সেরা রপ্তানি ডিসেম্বরে তার পরও প্রবৃদ্ধিতে পিছিয়ে

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৪, ১১:২৬ এএম

প্রধান প্রধান রপ্তানির বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার শঙ্কার মধ্যেই সদ্য শেষ হওয়া ডিসেম্বরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৫৩০ কোটি ডলার অতিক্রম করেছে। এটি ২০২৩ সালের যেকোনো মাসের তুলনায় সর্বোচ্চ। তার পরও এই রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কম। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৫৩৬ কোটি ডলার। মূলত তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমে যাওয়ায় ডিসেম্বরে আয় সামান্য কমেছে। তবে নানামুখী শঙ্কার মধ্যেও চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) রপ্তানি আয়ে সামান্য হলেও প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।

গতকাল রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ডিসেম্বরের রপ্তানি আয়ের তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথমার্ধে দেশে রপ্তানি আয় এসেছে ২ হাজার ৭৫৪ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথমার্ধে রপ্তানি আয় হয়েছিল ২ হাজার ৭৩১ কোটি ডলার। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি থাকলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। আলোচিত সময়ে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ১১ কোটি ডলার। তবে চলতি প্রথমার্ধে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ আয় কম হয়েছে।

ইপিবির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ডিসেম্বরে যে রপ্তানি আয় এসেছে তা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ কম। এই মাসে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৬২ কোটি ডলার। প্রধান বাজারগুলোতে তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমে যাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারছে না দেশের রপ্তানি খাত। শুধু তৈরি পোশাক নয় হিমায়িত খাদ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং জুতা রপ্তানিও কমছে।

ইপিবির ডেটা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তিন মাস ধরে তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় কমছে। দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক থেকে। ফলে এ খাতের আয় কমে যাওয়ায় তা পুরো রপ্তানিকে প্রভাবিত করছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভালো প্রবৃদ্ধি থাকলেও অক্টোবর থেকে তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমতে থাকে। অক্টোবরে প্রায় ১৪ শতাংশ রপ্তানি কমে যায় পোশাক খাতের। এর জেরে অক্টোবরে সার্বিক রপ্তানি আয় কমে যায় ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। পরের মাস নভেম্বরে তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমে যায় প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ। এ মাসে সার্বিক রপ্তানি কমে ৬ শতাংশের কিছুটা বেশি। ওই মাসে পণ্য রপ্তানি হয়েছিল ৪৭৮ কোটি ডলারের। আর ডিসেম্বরে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ফলে এ মাসে সার্বিক রপ্তানি কমেছে ১ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ।

রপ্তানির প্রধান অঞ্চল যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিতে চাহিদা কমে যাওয়ায় বিরূপ প্রভাব পড়ে খাতটিতে। এ ছাড়া শ্রম ইস্যুতে বাংলাদেশের বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞার শঙ্কাও রয়েছে। এরপরও ২০২৩ সালের পুরো বছরে পোশাকের রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে। বিদায়ী বছরে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৪ হাজার ৭৩৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের তুলনায় ১৬৮ কোটি ডলার বেশি। এ বছরে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। ২০২৩ সালে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রায় পুরোটাই এসেছে পোশাক রপ্তানি থেকে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পোশাক রপ্তানির এই প্রবৃদ্ধিতে শুধু নিটওয়্যার রপ্তানি অবদান রেখেছে। ২০২৩ সালে নিটওয়্যার রপ্তানি প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে ওভেন রপ্তানি কমেছে শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ।

২০২৩ সালের মাসভিত্তিক রপ্তানি পারফরম্যান্স পর্যালোচনায় দেখা যায়, জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারিতে মোটামুটি প্রবৃদ্ধি দিয়ে বছরটি ভালোভাবে শুরু হলেও মার্চ ও এপ্রিলে তা কমে যায়। এরপর মে-সেপ্টেম্বর সময়ে প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক ধারায় আবার ফিরে আসে। তবে বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) আবারও নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা দেয়।

এ বিষয়ে বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘বছরওয়ারি পোশাক রপ্তানি টার্নওভার হিসাব করলে ২০২৩ সাল পোশাকশিল্পের জন্য একটি ঐতিহাসিক বছর ছিল। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সংকট বিবেচনায় বাংলাদেশ মোটামুটি ভালো করেছে। তবে আমাদের প্রধান বাজারগুলোর আমদানি হ্রাস পেয়েছে। কারণ বেশিরভাগ উন্নত অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে লড়াই করছে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন আর্থিক নীতি-সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলো ভোক্তাদের চাহিদার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। তবে যেহেতু বিশ্বব্যাপী পোশাক-বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি প্রতিবছর ওঠানামা করে, তাই আমরা মনে করছি, ২০২৪ একটি পরিবর্তনের বছর হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত