পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। বুধবার (৩ জানুয়ারি) লাহোরের বিলাওয়াল হাউজে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির (সিইসি) বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এবারের নির্বাচনে বিলাওয়াল লাহোরের এনএ-১২৭ (আসন) থেকে লড়ছেন। সেখানে তিনি পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) নেতা শায়েস্তা পারভেজ মালিক এবং পিটিআই সমর্থিত এক প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
পিপিপির সিইসির এই বৈঠকে দলের নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইশতেহারে যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন বিলাওয়াল। তিনি বলেন, ‘আমি লাহোর থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কেউ পছন্দ করুক বা না করুক। জেনারেল জিয়া (জুলফিকার আলি ভুট্টোকে ফাঁসি দেওয়া সেনাশাসক) আমাদের ওপর পিএমএল-এন (নওয়াজ শরিফের দল) চাপিয়েছিলেন ও জেনারেল ফয়েজ হামিদ পিটিআই (ইমরান খানের দল) চাপিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, পিএমএল-এন ও পিটিআই উভয়ই শাসকগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছে। কারণ তারা কেউই দেশে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারেনি। পিপিপিই একমাত্র দল, যারা তাদের ইশতেহারে জনগণের অধিকারকে অগ্রাধিকার দেয়।
সরকার গঠনের পর তিনি জনগণকে বিনামূল্যে ও মানসম্মত শিক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘কর্মীদের মজুরি ২০০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হবে ও বিআইএসপি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত করা হবে। তিনি আরও বলেন, পিপিপি প্রতিটি জেলা সদরে এনার্জি পার্ক স্থাপন ও ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার পরিকল্পনা করেছে।’
৩৪ বছর বয়সী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর ছেলে ও জুলফিকার আলি ভুট্টোর নাতি। তার বাবা আসিফ আলি জারদারি ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পদে ছিলেন।
বিলাওয়াল ভুট্টো লেখাপড়া করেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। এপ্রিল ২০২২-আগস্ট ২০২৩ পর্যন্ত জোট সরকারের হয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
