২০২৩ সালে বৈশ্বিক খাদ্য মূল্য কমেছে প্রায় ১৪ শতাংশ। এ সময় খাদ্যশস্যের দাম কমেছে প্রায় এক-চতুর্থাংশ। একই সঙ্গে কমেছে ভোজ্য তেল, ডেইরি ও মাংসের দাম। ২০২৩ সালে বিশ্ববাজারে শুধু দাম বেড়েছে চিনির। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বৈশ্বিক খাদ্য মূল্যসূচকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের বাজার নিয়ে এফএওর প্রতিবেদনটি গতকালই প্রকাশ হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২০২৩ সালে সংস্থাটির গড় খাদ্য মূল্যসূচক ছিল ১২৪ পয়েন্ট, যা ২০২২ সালের গড় সূচক মানের তুলনায় ১৯ দশমিক ৭ পয়েন্ট বা ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ কম।
মাসভিত্তিক হিসাবে বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে খাদ্যপণ্যের দাম কমেছে আগের মাসের তুলনায় দেড় শতাংশ। এ সময় এফএওর খাদ্য মূল্যের সূচকমান ছিল ১১৮ দশমিক ৫ পয়েন্ট, যা আগের মাস নভেম্বরের তুলনায় ১ দশমিক ৮ পয়েন্ট কম। এ সময় গড় খাদ্য মূল্য ছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ১০ দশমিক ১ শতাংশ কম।
গত বছর খাদ্যশস্যের দাম কমেছে প্রায় ২৪ শতাংশ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে ২০২২ সালে খাদ্যশস্যের গড় মূল্যসূচক ওঠে রেকর্ড উচ্চতায়। সেখান থেকে ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ কমে গত বছর শেষে খাদ্যশস্যের গড়সূচক মান দাঁড়িয়েছে ১৩০ দশমিক ৯ পয়েন্টে।
বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্যের দাম গত বছরের বড় একটি সময় ছিল নিম্নমুখী। টানা চার মাস নিম্নমুখী থাকার পর গত মাসে গমের দাম কিছুটা বেড়েছে। ওই সময় বাড়তি চাহিদার বিপরীতে বৃহৎ রপ্তানিকারক দেশগুলোর প্রতিকূল আবহাওয়া ও কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনার কারণে পণ্যটির দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছিল। বর্তমানে চাল ছাড়া আর সব খাদ্যশস্যেরই দাম নিম্নমুখী রয়েছে। ডিসেম্বরে খাদ্যশস্যের মাসভিত্তিক সূচকমান ছিল ১২২ দশমিক ৮ পয়েন্ট, যা নভেম্বরের তুলনায় দেড় শতাংশ বেশি। তবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় এ সময় খাদ্যশস্যের গড় মূল্যসূচক হ্রাস পেয়েছে ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ।
গত বছর সবচেয়ে বেশি দরপতন ঘটেছে ভোজ্যতেলের বাজারে। আগের বছরের তুলনায় ২০২৩ সালে ভোজ্যতেলের গড় মূল্য কমেছে ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ। গত মাসেও ভোজ্যতেলের আন্তর্জাতিক বাজার ছিল নিম্নমুখী। এ সময় নভেম্বরের তুলনায় গড় দাম কমেছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ।
এফএওর মাংসের মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ডিসেম্বরে ১ শতাংশ কমেছে। আর সামগ্রিকভাবে গত বছর গড় মূল্য কমেছে সাড়ে ৩ শতাংশ।
ডিসেম্বরে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী ছিল ডেইরি পণ্যের দাম। এ সময় নভেম্বরের তুলনায় দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু ভিন্ন চিত্র ছিল পুরো বছরের হিসাবে। ২০২৩ সালে এসব পণ্যের গড় মূল্য আগের বছরের তুলনায় ১৬ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে।
গোটা বছরের হিসাবে দাম বেড়েছে শুধু চিনির। ২০২৩ সালে চিনির গড় মূল্যসূচক মান ছিল ১৪৫ পয়েন্ট। আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ। এফএওর চিনি সূচক এখন ২০১১ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে। বৈশ্বিক সরবরাহ কমে আসার আশঙ্কায় পণ্যটির বাজার এখন অস্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছে এফএও।
