প্রথম ভোট দিয়ে যা বললেন তিন তরুণী

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৪, ০৭:১০ পিএম

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, দেশের মোট ভোটার সংখ্যা এখন ১১ কোটি ৯৬ লাখ। এদের মধ্যে ১ কোটি ৫৪ লাখ নতুন ভোটার। অনেকেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। 

এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে শিথিল, সিনথিয়া এবং নাফিসার। তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে দেশ রূপান্তর অনলাইনের। ফোনালাপে নিজেদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করা নিয়ে মতামত তুলে ধরেছেন তারা।    

শিথীল ইশা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এই শিক্ষার্থী আজ প্রথমবার ভোট দিলেন। গাইবান্ধা ২ আসনের নির্বাচনী এলাকায় মুন্সি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিয়েছেন তিনি। প্রথমবার ভোট দেওয়ার খুশিতে ভোটের চিহ্নপরা আঙুলের ছবি পোস্ট করেছেন তিনি ফেসবুকে। তার তাকে প্রশ্ন করা হয়:

নির্বাচন, ভোট নিয়ে এত নেতিবাচক প্রচারণা হলো, তবু কেন ভোট দিতে গেলেন?    

উত্তরে শিথীল বলেন, ‘আমি নতুন ভোটার। ভোট দেওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। দেশের নাগরিক হিসেবে আমার ভোটাধিকার রয়েছে। তাই ভোট দিয়ে অধিকার প্রয়োগ করলাম। ভোট দিয়ে খুবই ভালো লেগেছে।  খুবই  এক্সাইটেড ছিলাম। বাড়ির সবাই মিলে একসাথে ভোট দিতে যাওয়া আনন্দের ছিল। সবসময় দেখেছি বাড়ির বড়রা ভোট দিতে যাচ্ছে। তখন ভাবতাম আমি কবে দিবো। আজ ভোট দিলাম।’

নতুন প্রজন্মের অনেকেই রাজনীতি, ভোট এসব নিয়ে আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে প্রায়ই শোনা যায়, আপনিও এই প্রজন্মের, তাও ভোট দিলেন যে! 

উত্তরে তিনি বলেন: তরুণদের ভোট দেওয়া উচিত। কারণ, তাদের চিন্তা ভাবনা,মতামত, তারা কেমন প্রতিনিধি চায়, দেশকে কোন অবস্থানে দেখতে চায়, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কেমন চায় সেটার উপর ভিত্তি করে তারা প্রতিনিধি করার আনুষ্ঠানিক সুযোগ ভোটকে কাজে লাগাবে। এখন বাস্তবে কতটুকু তার প্রতিফলন সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু ভোটের সংস্কৃতিটা জরুরি। তাহলে আমাদের নতুনদের মধ্যে যে রাজনৈতিক সচেতনতা আসবে তাতে দেশেও একদিন পরিবর্তন আসবে। ভোট দেওয়ার মাধ্যমে নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের বড় একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আমাদের ভোট কম গুরুত্বপূর্ণ নয় বলে মনে হয়েছে আমার।’ 

শিথীলের কাছে জানা গেল তার আরও সহপাঠীরা এবার প্রথমবার ভোট দিয়েছে। তাদের একজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিসা মুমু। বরগুনা সদরে (১ আসন) এবার ভোট দিয়েছেন তিনি।    

তার কাছে দেশ রূপান্তরের প্রশ্ন ছিল- আগেই ভোট হয়ে যায়, আপনার ভোট অন্যজন দিয়ে দিয়েছে এসব কথা গত কয়েক বছর ধরে চালু আছে। তবু কেন ভোট দিতে কেন্দ্রে গেলেন?

উত্তরে নাফিসা বলেন, ‘আমাদের জেনারশনের অনেকেই এবার নিজেদের ভোট দিয়েছে হয়তো। আমার কাছে মনে হয় নাগরিক হিসেবে যেহেতু আমার ভোটাধিকার হয়েছে তাহলে ভোটটা দেওয়া উচিত। প্রথম অভিজ্ঞতা আর এক্সাইটমেন্টের জন্যই আসলে ভোট দিলাম।’

শিথীল, নাফিসার মতো এবারই প্রথম ভোট দিয়েছেন মানিকগঞ্জের সিনথিয়া আক্তার। বাড়ির কাছেই মত্ত উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন তিনি। জেলার সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের এই শিক্ষার্থী বললেন, ভোট দিতে পেরে নিজেকে একটু বড়দের মতো লাগছে। 

রাজনীতি ও ভোটবিমুখ আপনার বয়সী অনেকেই, আপনি কী মনে করেন রাজনীতিকে অপছন্দ করা উচিৎ? 

দেশ রূপান্তরের এ প্রশ্নের জবাবে সিনথিয়া বলেন, ‘পলিটিকাল সায়েন্সের শিক্ষার্থী আমি, আই হেইট পলিটিক্স, এটা আমি কখনোই বলবো না। আবার আমার দেশের সব রকম রাজনীতিই যে আমার পছন্দ সেটাও না। ভোট দেওয়া আমার নাগরিক অধিকার, আমি আমার জায়গাটা ঠিক রাখতে ভোট দিয়েছি।’    

এই তিন তরুণীর মতো অনেক ভোটার এবার প্রথম ভোট দিলেন। তবে এই তিন ভোটদাতা আশা করেন, আগামী নির্বাচনগুলোতে ভোটের আগের দিনগুলোর মতো ভোটের দিনেও আনন্দ- উৎসব দেখবেন তারা।

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, এখন চলছে ভোট গণনার পালা। ফলাফলের পর যেন কোনো সহিংসতা না হয় , এমন প্রত্যাশাই এই নতুন ভোটারদের।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত