বিএনপিসহ বিরোধী দল

জনগণ নির্বাচন বর্জন করেছে

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৪, ০৩:১২ এএম

একতরফা নির্বাচন জনগণ বর্জন করেছে বলে দাবি করেছেন বিএনপিসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। ভোট বর্জনের আহ্বানে সাড়া দেওয়ায় ভোটারদের অভিনন্দন জানিয়ে তারা বলেছেন, ‘সরকারের পদত্যাগের আন্দোলন চলছে। সরকার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তা চলবে।’ গতকাল বিকেলে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সরকার ৭ জানুয়ারি ফেলানী হত্যা দিবসে পাতানো নির্বাচন করে ফেলানীর মতোই গণতন্ত্রকে কাঁটাতারে ঝুলিয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন “নৌকার এজেন্ট ছাড়া আর কোনো প্রার্থীর এজেন্টকে দেখতে পাইনি”। তাহলে ১৮ শতাংশ (সকাল পর্যন্ত) ভোটার কোথা থেকে এলো? এত দিন দেখেছি ভোটকেন্দ্রে মানুষ আসত; আজ দেখলাম যশোরের একটি ভোটকেন্দ্রে বানর ভোট দিতে এসেছে।’

গতকাল রবিবার দুপুরে গুলশানে নিজ বাসভবনে গণমাধ্যমকে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘বিএনপির মতো আওয়ামী লীগের ভোটাররাও জানেন, তাদের প্রার্থী এরই মধ্যে জয়ী হয়েছেন। নিশ্চিত জয় জানার কারণেই ডামি নির্বাচনে ভোট দিতে আগ্রহ হারিয়েছেন আওয়ামী লীগের ভোটাররা। জনগণ বিএনপির আহ্বানে সাড়া দিয়ে নির্বাচন বর্জন করেছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের নির্বাচন-নাটকের শেষ অঙ্কের মঞ্চায়ন হয়েছে আজ। বিএনপি এক বছর ধরে যে কথা বলছে, সরকারকে জনগণ বর্জন করেছে, নির্বাচন বর্জন করে জনগণ আজ তা প্রমাণ করেছে।’

মঈন খান বলেন, ‘সরকারের নির্বাচনী নাটকের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। কেন্দ্র ভোটারশূন্য; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখুন, ভোটকেন্দ্রের সামনে লোকদের ভয় দেখিয়ে বা দলীয় কর্মীদের দাঁড় করিয়ে ভোটারদের কৃত্রিম লাইন তৈরি করে রাখা হয়েছে। এটি সরকারের নাটক। এবার সরকার নিজেদের প্রতারিত করতে পারবে, তবে বিদেশিদের প্রতারিত করা সম্ভব হবে না। দেশ-বিদেশে গণমাধ্যমে নির্বাচনের খবর চাউর হয়েছে। আগামীকাল দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে নির্বাচনের প্রকৃত চিত্র প্রকাশ পাবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সময় লাগতে পারে, তবে ধৈর্য ধরতে হবে। বিএনপি আন্দোলনে আছে, আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

ভোটার ছাড়া নির্বাচন জনগণ বর্জন করেছে গণতন্ত্র মঞ্চ : বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশে গণতন্ত্র মঞ্চ নেতারা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ভোটার ছাড়া নির্বাচন বলে অভিহিত করে বলেন, দেশবাসী তাদের নির্বাচন বর্জনের ডাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়েছে। কারণ কেন্দ্রে মানুষ নেই, ভোটার নেই। এটা একটা ভোটারবিহীন নির্বাচন।’ তারা বলেন, ‘সরকারের সব অপচেষ্টাকে মোকাবিলা করে মানুষ ভোট বর্জন করেছে। মানুষ প্রমাণ করেছে, দেশে গণতন্ত্র নেই। দুঃশাসন ও ভোট ভোট খেলার জবাব মানুষ দিয়েছে।’

জনগণ স্বেচ্ছায় লকডাউনে ছিল এবি পার্টি : দুপুরে বিজয়নগরের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ভোট বর্জন করায় জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) আহ্বায়ক এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরী বলেন, ‘আজ ভোটকেন্দ্রে ছিল সরকারের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও আওয়ামী লীগের ক্যাডার বাহিনী। ভোটারদের দেখা যায়নি। দেখা গেছে কিছু কুকুর, বানর, ভেড়া ও ছাগল। জনগণ এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে।’

৭ জানুয়ারির নির্বাচন কালো দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে জামায়াত : গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করায় দেশবাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আজ ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের জনগণ ও বিশ্ববাসী বাংলাদেশে আরও একটি ভোটারবিহীন প্রহসনের ‘ডামি’ নির্বাচন প্রত্যক্ষ করল। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি কালো দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।’

সরকার যত ভোট কাস্ট চাইবে ইসি ততই দেখাবে লেবার পার্টি : ভোট বর্জনের জন্য জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই চলছে। এ লড়াই চলবে।’ তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যম ও অনলাইনে দেখেছি, বেলা সাড়ে ১১টার সময়ও অনেক ভোটকেন্দ্রে ১০টি, ১২টি, ১৫টি ভোট পড়েছে। কিন্তু সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন হয়তো ৭০ ভাগ বা ৮০ ভাগ ভোট পড়েছে বলে দেখাবে। সরকার যত ভাগ চাইবে, কমিশন তত ভাগই দেখাবে।’

নির্বাচন নয়, শেখ হাসিনাকে বর্জন করেছে জনগণ সুব্রত চৌধুরী : মিছিল শেষে পুরানা পল্টন মোড়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে গণফোরামের একাংশের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে জনগণ শুধু ডামি নির্বাচন বর্জন করেনি, তারা শেখ হাসিনাকেই বর্জন করেছে।’

গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে, ভোট বর্জন করায় জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত