নির্বাচনের শুরু থেকেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ঢাকা-১৯ আসন। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এর মূলে ছিল তিন হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াই।
এ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ে এগিয়ে ছিলেন নৌকার প্রার্থী দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়াই করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মো. তৌহিদ জং মুরাদ ও ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম।
এ আসনে তিনজন প্রার্থী ফলাফলের আগ পর্যন্ত জয়ের বিষয়ে আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু ভোটারদের রায়ে নৌকা ও ঈগল প্রতীককে হারিয়ে জয়লাভ করেন ধামসোনা ইউনিয়নের সাতবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম।
জানা গেছে, তিনজন প্রার্থী একই দলের নেতা। ফলে স্থানীয় নেতাকর্মীরাও তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। নৌকার প্রার্থী দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান ততটা নেতাকর্মী বান্ধব ছিলেন না। সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় তিনি নেতাকর্মীদের তেমন মূল্যায়ন করতেন না। ফলে নেতাকর্মীরা তার দিক থেকে কিছুটা সরে যায়।
অন্যদিকে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য তৌহিদ মুরাদ জংয়ের নাম আসে। তার পর থেকে তিনি ১০ বছর এলাকায় ছিলেন না। হঠাৎ করে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি লড়াই করেন। জয়ী হওয়ার জন্য ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যান। কিন্ত স্থানীয়রা অতীতের বিষয়টি বিবেচনা নিয়ে তাকে কিছুটা কম সমর্থন দিয়েছেন।
এদিকে আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী আশুলিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম টানা সাতবার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও ভোটারদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতেন। সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে এই বিষয়টি।
রাজধানীর শিল্প অধ্যুষিত জনবহুল এলাকা সাভার ও আশুলিয়া মিলে ঢাকা-১৯ আসন। ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে এই আসন। পৌরসভাতেই ভোটার ছিল প্রায় দুই লাখ। আর ধামসোনা নামের একটি ইউনিয়নে আরও প্রায় দুই লাখ ভোটার। এই দুই এলাকার ভোটের অঙ্কেই ছিল ঢাকা-১৯ আসনে জয়ের সমীকরণ। প্রার্থীদের লড়াইটাও ছিল সেখানে। ধামসোনা এলাকায় সাতবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী। মূলত সেখানকার ভোটাররা তাকে সমর্থন দেওয়ায় তিনি ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে যান।
ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের ২৯২ কেন্দ্রে ফলাফল অনুযায়ী নির্বাচিত চেয়ারম্যান মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৪১২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী তালুকদার মো. তৌহিদ জং মুরাদ পেয়েছেন ৭৬ হাজার ২০২ ভোট। বর্তমান সংসদ সদস্য এনামুর রহমান পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৩৬১ ভোট।
সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ঢাকা-১৯ আসনে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছিলেন তালুকদার মোহাম্মদ তৌহিদ জং মুরাদ। পরে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি।
এরপর ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ভবন মালিক সোহেল রানার সঙ্গে সখ্যের কারণে দলীয় রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়েন তিনি।
