দলা পাকানো এক টুকরা টিস্যু পেপার। তাতে আইলাইনার দিয়ে লেখা কয়েকটি লাইন। হাতের লেখাও কাঁপা কাঁপা। ভারতের গোয়ায় সূচনা শেঠের ঘর থেকে সেই কাগজ উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ জানিয়েছে, টিস্যুর মধ্যে অন্তত পাঁচ লাইন লিখেছিলেন সূচনা। তাতে তার বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় আদালতের নির্দেশ নিয়ে হতাশার প্রকাশ রয়েছে। আদালত তার ছেলেকে প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে প্রতি রবিবার করে দেখা করার নির্দেশ দিয়েছিল। তাতেই অসন্তুষ্ট ছিলেন সূচনা।
উদ্ধার হওয়া টিস্যু পেপারের লেখা সূচনার কিনা জানতে ইতোমধ্যে তা ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সূচনার বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পেরেছে, ছেলেকে নিয়ে বিরক্ত ছিলেন বেঙ্গালুরুর স্টার্টআপ সিইও।
তিনি নাকি ঘনিষ্ঠ মহলে একাধিক বার জানিয়েছিলেন, ছেলের মুখ দেখে তার স্বামীর কথা মনে পড়ে। কারণ ছেলের মুখের সঙ্গে স্বামীর মুখের মিল ছিল। ওই শিশুমুখ তাকে তাদের বিষাক্ত সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিত।
কর্নাটকে ছেলের মরদেহসহ ধরা পড়া সূচনাকে ট্রানজিট রিমান্ডে গোয়ায় নেওয়া হয়েছে। ছয় দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে তাকে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছে, দাম্পত্য সমস্যায় জর্জরিত সূচনা ও তার স্বামী বেঙ্কটরামনের বিবাহবিচ্ছেদ মামলা শেষ পর্বে পৌঁছেছে। ২০১০ সালে বিয়ে হয় তাদের। ২০১৯ সালে তাদের কোলজুড়ে আসে ছেলে সন্তান। ২০২১ সাল থেকে আলাদা থাকছিলেন সূচনা ও বেঙ্কট। গত বছর আগস্টে স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের মামলা করেন তিনি।
অভিযোগ ছিল, বেঙ্কট ছেলেকে ও তাকে শারীরিক নির্যাতন করেন। পাশাপাশি স্বামীর কাছ থেকে প্রতি মাসে আড়াই লাখ টাকা খোরপোশের দাবিও করেন সূচনা। তিনি আদালতে জানান, তার স্বামী বছরে কোটি টাকারও বেশি অর্থ উপার্জন করেন।
এরপর গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মামলা চলাকালে প্রতি মাসে সূচনাকে ২০ হাজার টাকা করে খোরপোশ দিতে বেঙ্কটকে নির্দেশ দেন আদালত। পাশাপাশি সূচনার বাড়িতে ঢুকতে, ফোন বা মেসেজ করে যোগাযোগ রাখতে নিষেধ করা হয়। একই সঙ্গে প্রতি রোববার ছেলের সঙ্গে বাবাকে দেখা করার অনুমতিও দেন আদালত। ধারণা করা হচ্ছে আদালতের এই রায়েই ভেঙে পড়েছিলেন সূচনা।
তদন্তকারীরা আগেই অনুমান করেছিলেন, বাবার সঙ্গে দেখা হওয়া আটকাতেই রাগের বশে ছেলেকে খুন করতে পারেন সূচনা। হোটেলের ঘর থেকে চিঠি উদ্ধার হওয়ার পর সেই অনুমান আরও কিছুটা পোক্ত হল।
বেঙ্গালুরুর এক স্টার্টআপ সংস্থার সিইও সূচনা। বর্তমানে তাকে নিয়ে ভারতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। গত সপ্তাহে তার বিরুদ্ধে নিজের শিশুপুত্রকে খুনের অভিযোগ ওঠে।
তোয়ালেতে রক্ত, সন্তান খুনে অভিযুক্ত মা বললেন ‘ঋতুস্রাবের দাগ’
সন্তানকে হত্যা করে মরদেহ ব্যাগে নিয়ে ঘুরছিলেন নারী 