গৃহবধূকে ধর্ষণের পর হত্যা ৫ জনের মৃত্যুদন্ডের রায়

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:৩৬ এএম

শরীয়তপুরে ৫৫ বছরের এক গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে পাঁচ আসামির মৃত্যুদন্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে শরীয়তপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সোহেল আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন। এ ছাড়া প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন নিজাম বালী (৪৫), মোহাম্মদ আলী (৩৫), ওমর ফারুক বেপারি (২৪), আল আমীন বেপারি (২০) ও ইব্রাহীম মোল্লা (২১)। তারা ডামুড্যা উপজেলার দক্ষিণ সুতলকাঠীর বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি তিন আসামি পলাতক।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল বিকেল ৫টার দিকে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের ভূঁইয়া বাজার এলাকার ৫৫ বছর বয়সী নারী ফিরোজা বেগম। ২১ এপ্রিল বাড়ি থেকে ১০ কিলোমিটার দূরের পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের বড় নওগাঁ এলাকার আব্দুর রহমান মাস্টারের বাড়ির পূর্ব পাশের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে তার হাত ভাঙা ও মাথায় আঘাতের ক্ষত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরের দিন ওই নারীর ছোট ভাই লাল মিয়া সরদার বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে দু-তিনজনকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে শরীয়তপুর আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন।

নিহত ফিরোজা বেগমের ছেলে চিকিৎসক শাহ জালাল হাওলাদার বলেন, ‘আমরা রায়ে খুশি হয়েছি। সরকারের কাছে দাবি দ্রুত যেন এই রায় কার্যকর হয়।’

শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট ফিরোজ আহমেদ বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক হত্যাকা-ের রায়। এক নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ মামলায় পাঁচজনকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে সন্তুষ্ট।

তবে এ রায়ে অসন্তোষ জানিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী নাসরিন আক্তার বলেন, ‘এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত