দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে সহিংসতায় সারা দেশে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে সংঘাত-সংঘর্ষে ২ হাজার ২০০ জন আহত ও শতাধিক মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছে। মানবাধিকার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি গতকাল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচন পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে ৩৫০টির বেশি গৃহ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনার তথ্য জানানো হয়েছে।
ভোটগ্রহণের দিন (৭ জানুয়ারি) কমপক্ষে ৫০টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে এইচআরএসএস। এদিন মুন্সীগঞ্জ, বরগুনা এবং কুমিল্লায় তিনজন নিহত এবং দেড় শতাধিক মানুষ আহত হয়। এর মধ্যে ১৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এইচআরএসএস জানিয়েছে, নির্বাচনের দিন দেশের বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনের প্রার্থী, পোলিং এজেন্ট এবং প্রিসাইডিং অফিসাররাও আক্রমণের শিকার হয়েছেন। নির্বাচনের দিন পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ৩০ জনের বেশি সাংবাদিক আক্রমণ, লাঞ্ছনা ও হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন। বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাই, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ জেলায় সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে সাতজন। এ সময়ে ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি আহত, ২০ জনের বেশি গুলিবিদ্ধ, ৫০টির বেশি গৃহ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ৪০টিরও বেশি নির্বাচনী কেন্দ্র ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, নির্যাতন, নিপীড়ন, ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ অবরুদ্ধকরণের তথ্য দিয়েছে এইচআরএসএস। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর ও বেলকুচিতে ঈগল প্রতীকে ভোট দেওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক জেলেপাড়া, ভাঙ্গাবাড়ি গ্রামের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা করে প্রতিমা ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও গবাদিপশু নিয়ে যায়।
এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে তাঁতীপাড়ায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের কমপক্ষে ছয়টি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ৫০টি হিন্দু পরিবারকে সাত দিন ধরে অবরুদ্ধ করে রাখার মতো ঘটনা ঘটেছে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে তেনাই তোলা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুজনের ওপর হামলা হয়। এ ছাড়া কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ঈগল প্রতীকের সমর্থক দুজনকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটেছে। ফরিদপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদকে সমর্থন দেওয়ায় ১৫ জন সংখ্যালঘুকে মাঝিপাড়ায় তাদের বাড়িঘরে হামলা করে আহত করা হয়। গাইবান্ধা-৫ আসনে চারটি হিন্দু বাড়িতে হামলা করে প্রায় ৫ লাখ নগদ টাকা ও গবাদিপশু কেড়ে নেওয়া হয়। মাদারীপুরের কালকিনিতে বেদে সম্প্রদায়ের সদস্যরা ও ঝিনাইদহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা করে ক্ষমতাসীন দলের কর্মী সমর্থকরা।
