এবারের নির্বাচনও বিতর্কের ঊর্ধ্বে যেতে পারেনি : সিইসি

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৪, ০৫:২৮ এএম

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও বিতর্কের ঊর্ধ্বে যেতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তবে এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জাতি একটি সংকট থেকে উঠে এসেছে বলেও মনে করেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন ভবনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন করায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে সিইসি এসব কথা বলেন।

সিইসি বলেন, ‘কোনো নির্বাচনই বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠতে পারেনি। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনও বিতর্কের ঊর্ধ্বে যেতে পারেনি। বিতর্কটা আছে কমবেশি। যেটা আশঙ্কা করা হয়েছিল ব্যাপক অনিয়ম হবে। তবে নির্বাচনটাকে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সাফল্য ও গ্রহণযোগ্য করা সম্ভব হয়েছে।’

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ত্রিমুখী চাপ ছিল উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘নির্বাচনে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা, রাষ্ট্র ও বিভিন্ন সংগঠন আমাদের নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তারাও নির্বাচন বিষয়ে গাইডলাইন দিচ্ছিলেন। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এই ধরনের ইচ্ছা ব্যক্ত করছিলেন। আমরা বিভিন্ন চাপে নির্বাচনটাকে আরও বেশি সুষ্ঠু করার জন্য বেশি উদ্বুদ্ধ হয়েছি।’

সরকারের সহযোগিতা ছাড়া এত বড় কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করা সম্ভব হতো না উল্লেখ করে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, এটা সংবিধানেও বলে দেওয়া হয়েছে, আইনেও বলে দেওয়া হয়েছে।

সিইসি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি নির্বাচনটা সুসম্পন্ন হয়েছে। একটা চলমান সংকট যেটা নিয়ে উৎকণ্ঠা ছিল, শঙ্কা ছিল, উদ্বেগ ছিল সেখান থেকে জাতি উঠে এসেছে।’ তবে এটাকে স্থায়ী সমাধান মনে করেন না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি না। নির্বাচন কমিশন কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। পরোক্ষভাবে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নির্বাচন কমিশন। রাজনীতিবিদদের যদি আমাদের ওপর আস্থা না থাকে, অনাস্থা যদি চরম মাত্রায় চলে যায় তাহলে নির্বাচন কমিশনের গ্রহণযোগ্যতাও থাকে না।’

রাজনৈতিক সংকট নিরসনের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের নয় উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘আমাদের নয় আমরা হয়তো আমাদের নৈতিক অবস্থান থেকে অনুরোধ করতে পারি সংকট নিরসন করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার।’

নির্বাচনকেন্দ্রিক সংকট সমাধানে রাজনৈতিক নেতাদের একটি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি খোঁজার তাগিদও দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল।

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর বলেছেন, ‘টকশোতে যখন দায় চাপানো হয় তখন খারাপ লাগে। অনেক সময় তারা (আলোচকরা) না জেনে, বা আংশিক জেনে মতামত দেন। অবশ্য তারা পণ্ডিত ব্যক্তি। অল্প জেনেই পুরোটা লিখতে পারেন। তাদের পুরোটা জানা দরকারও হয় না।’

নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘আমরা ভালো একটা নির্বাচন করতে চেয়েছিলাম। না করতে পারলে হয়তো আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিতাম। আমাদের সরকার সহায়তা দিয়েছে। তা না হলে এক সুরে একভাবে কাজ করা সম্ভব হতো না। আশা করি মানসম্মানের সঙ্গে চলে যেতে পারব।’

নির্বাচন কমিশনার মো. আহসান হাবিব খান বলেন, ‘ইমানের সঙ্গে কাজ করে সফল হয়েছি। যে স্ট্যান্ডার্ডে পৌঁছেছি, সে স্ট্যান্ডার্ড থেকে নামতে পারব না। আমরা দেখিয়ে দেব কীভাবে এই কমিশন কাজ করে। এবং এটি ভবিষ্যতের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।’

নির্বাচনের দিন ব্রিফিংয়ের সময়কে কেন্দ্র করে ভোট পড়ার হার নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি  হয়েছে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘সাড়ে ৩টায় যদি শেষ ব্রিফ করত ৩টার তথ্য নিয়ে তাহলে বিভ্রান্তি হতো না। চ্যালেঞ্জ করলে আমরা তা দেখাতে পারি। যারা সাদাকে কালো দেখেন, তারা কালোই দেখবেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত