যেভাবে দিয়াগো গার্সিয়ায় তামিলরা 

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৪, ১১:৫৭ পিএম

ভারত মহাসাগরের দ্বীপ দিয়াগো গার্সিয়াকে অভিবাসীদের দীর্ঘমেয়াদে অবস্থানের ‘অযোগ্য’ আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ। কিন্তু যুক্তরাজ্যের মালিকানাধীন ব্রিটিশ-মার্কিন যৌথ সামরিক ঘাঁটিতে তো কোনো বেসামরিক মানুষেরই যাওয়ার কথাই নয়। তাহলে তারা এল কীভাবে? ... গোটা ব্যাপারটি বেশ আগ্রহ উদ্দীপক, আবার বেদনাদায়কও।  

বছর দুয়েক আগে শ্রীলঙ্কার তামিল জনগোষ্ঠীর ৬০ জনের মতো মানুষ দ্বীপরাষ্ট্রটি থেকে কানাডায় যাবেন বলে নৌকায় চেপে বের হন। পরে তারা সমস্যায় পড়ে দিয়াগো গার্সিয়ায় নামতে বাধ্য হন। দ্বীপটির কয়েকশ কিলোমিটার আশপাশেও বেসামরিক কোনো বসতি নেই।

আশ্রয়প্রার্থী তামিলদের খবর পেয়ে ব্রিটিশ সরকারের ব্যবস্থাপনায় ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধিরা দিয়াগো গার্সিয়ায় যান। সংস্থাটির এক কর্তাব্যক্তি বলছেন, ‘দ্বীপটিতে কোনো বেসামরিক জনগণ নেই। সেখানে দীর্ঘমেয়াদে এসব মানুষের (তামিল) থাকা সম্ভব নয়।’ সংস্থাটি এসব মানুষকে আশ্রয়প্রদানের জন্য ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে দিয়াগো গার্সিয়ায় ব্রিটিশ আইন-আদালত থেকে শুরু করে বেসামরিক প্রশাসনের কোনো ব্যবস্থাই নেই। শরণার্থী সনদ বাস্তবায়নের পরিস্থিতিও এখানে নেই। তবে অঞ্চলটি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিবাসীদের সুরক্ষাকে তারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। 

কিন্তু প্রশ্ন দাঁড়ায়, তামিলরা হঠ্যাৎ কেন এল দিয়াগো গার্সিয়ায়। উত্তর পেতে হলে, যেতে হবে তামিল বিদ্রোহের ইতিহাসে। ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার সিংহল জনগোষ্ঠী-প্রভাবিত সরকার দেশটির তামিল বিদ্রোহীদের পরাজিত করে কয়েক দশকের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটায়। হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ তামিল ভূখন্ডের গেরিলা নেতা ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণের নেতৃত্বাধীন গেরিলা দল লিবারেশন টাইগার্স ঋয তামিল ইলম (এলটিটিই) পরাস্ত হয়। দিয়াগো গার্সিয়ায় আসা অভিবাসীরা হলেন সেইসব তামিল বিদ্রোহী। তাদের অভিযোগ, শ্রীলঙ্কার সরকার তাদের ওপর নিপীড়ন অব্যাহত রেখেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত