আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে গাজীপুরে টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে শুরু হতে যাচ্ছে দুই পর্বের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। তবে ইজতেমা ময়দানে লাখো মানুষের অবস্থানের জন্য চটের ছাউনি, বিদেশি মেহমানদের আবাসস্থলে টিনের ছাউনিযুক্ত পৃথক কামরা তৈরির আনুষাঙ্গিক কাজ ইতিমধ্যেই পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে। সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রম বাঁশের খুঁটি স্থাপন এবং তাতে ত্রিপল টানানোসহ নানা কার্যক্রম চালাচ্ছেন বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। গত কয়েক দিন ধরেই গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো মুসল্লি এসে যোগ দিচ্ছেন ইজতেমার প্রস্তুতির নানা কাজে। ছুটির দিনগুলোতে স্বেচ্ছাসেবিদের সংখ্যা আরও বাড়ছে। ইজতেমা উপলক্ষে গাজীপুর জেলা প্রশাসন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন (গাসিক) ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
ইজতেমার মুরব্বিরা জানান, এবারও দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হবে দেশে মুসল্লিদের বৃহত্তম এ জমায়েত। দুই থেকে চার ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রথম পর্বে মাওলানা জুবায়ের পন্থিরা এবং চার দিন বিরতির পর নয় থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দ্বিতীয় পর্বে জড়ো হবেন মাওলানা সাদ অনুসারীরা।
গতকাল শুক্রবার ইজতেমা ময়দানে গিয়ে দেখা গেছে, কনকনে শীত উপেক্ষা বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত তাবলিগ জামায়াতের শীর্ষ মুরুব্বিদের নির্দেশনা মতো মুসল্লিরা ইজতেমার নানা কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। কেউ ইজতেমা ময়দানের নামাজের দাগ কাটছেন, কেউ বিদ্যুৎসংযোগ ও প্যান্ডেলের চট সেলাই করছেন। মাঠের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে তৈরি করছেন চটের কামরা। তৈরি করা হচ্ছে মঞ্চ। ইজতেমা ময়দানে খুঁটি বসানো প্রায় শেষ পর্যায়ে।
মাওলানা জোবায়ের অনুসারী মিডিয়া সমন্বয়কারী মুফতি জহির ইবনে মুসলিম বলেন, আল্লাহর কাজে স্বেচ্ছায় শ্রম, অর্থ ও সময় দেওয়ার চেয়ে বড় নজির নেই। আল্লাহর কাজে দ্বীনের দাওয়াতের জন্য মেহনত করা, আল্লাহকে রাজি খুশি করার প্রতিদান আল্লাহ দেবেন। তিনি বলেন, পবিত্র কোরআনে বর্ণিত আছে, দুনিয়াতে আল্লাহর কাজে জান-মাল, অর্থ ও সময় দিয়ে সাহায্যকারীরা আখিরাতে জিহাদের সমতুল্য মর্যাদা পাবেন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, এবার ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তায় সাড়ে ৭ হাজার পুলিশ মোতায়েন
থাকবে। সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার ও রুফটপ থেকে পুরো ইজতেমা ময়দানের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ ছাড়া স্পেশালাইজড টিমসহ সাদা পোশাকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবে। অগ্নিনির্বাপণের জন্য প্রতি খিত্তায় দুটি করে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখা হবে। তুরাগ নদে নৌ টহলও থাকবে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জায়েদা খাতুনের উপদেষ্টা সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রায় সাড়ে ৮ হাজার অস্থায়ী টয়লেটের ব্যবস্থা রয়েছে। ময়দানের চাহিদা মোতাবেক ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ এবং ফগার মেশিনে মশক নিধনেরও কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত পানি ছিটানো, মশার ওষুধ দেওয়া, পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সব রকমের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেখানে সার্বক্ষণিক একাধিক টিম কাজ করবে। মুসল্লিদের যেকোনো সমস্যায় তারা কাজ করে যাবে।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, দুই পর্বের ইজতেমা সফল করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। এ জন্য বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে একাধিক প্রস্তুতিমূলক সভাও করা হয়েছে। মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তাসহ সব বিষয় বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
