চট্টগ্রামে কোভিড আক্রান্ত এক নারীসহ দুজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার (২১ জানুয়ারি) সকালে তাদের ভর্তি করা হয়।
তারা হলেন— চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ডলু ব্রিজ এলাকার মফিজুর রহমানের ছেলে ৬০ বছর বয়সী নুরুল কবীর এবং নগরের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়েনের শাহেদের বাড়ির ইমাম হোসেনের স্ত্রী মনিরুজ্জাহান (৬৬)।
নুরুল কবীরের ছেলে মো. রুবেল দেশ রুপান্তরকে জানান, পাঁচ দিন আগে তার বাবাকে চমেক হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। ওই ওয়ার্ডের ৩৩ নম্বর শয্যায় তার বাবার চিকিৎসা চলছিল। গতকাল শনিবার পরীক্ষার পর তার বাবার শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। নুরুল কবীরের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান রুবেল।
চমেকের আইসিইউর কর্তব্যরত এক চিকিৎসক জানান, মনিরুজ্জাহান ও নুরুল কবীরের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা দুজনই আগে থেকে ডায়াবেটিস, কিডনি এবং উচ্চ রক্তচাপসহ নানা রোগে আক্রান্ত। তবু তাদের জীবন রক্ষার জন্য আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার (রোগ ও নিয়ন্ত্রণ) ডা. মোহাম্মদ নুরুল হায়দার জানিয়েছেন, গত ১৯ ও ২০ জানুয়ারি দুইদিনে করোনায় আক্রান্ত তিন রোগী চমেক হাসপাতালে ভর্তির তথ্য সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষ।
‘চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে এ কথা এখন বলা যাবে না। এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আরও দুই মাস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে’ বলেন ডা. মো. নুরুল হায়দার।
সিভিল সার্জন অফিসের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘মানুষ কোভিড-১৯ শনাক্তের পরীক্ষা করাচ্ছে কম। তাই শনাক্ত হচ্ছে না। অনেক মানুষ উপসর্গ নিয়ে আছে। কিন্তু পরীক্ষা করায় না। তবে ধীরে ধীরে সংক্রমণের হার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখীর প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কারণ করোনার নতুন উপধরন জেএন.১। এটি করোনার অমিক্রন ধরনের একটি উপধরন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, জেএন.১ উপ-ধরনটি নিয়ে উদ্বেগ আছে। কারণ, এটি অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা রাখে। তবে এর তীব্র উপসর্গ দেখা যাচ্ছে না। আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। করোনা শনাক্তের জন্য এ পর্যন্ত ১ কোটি ৬৩ লাখের বেশি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২০ লাখ ৪৬ হাজার ৭১১ জনের। শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মারা গেছেন ২৯ হাজার ৪৭৯ জন। সর্বশেষ গত ১৪ জানুয়ারি করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মারা গেছেন এক নারী।
