সেকালের ‘এমআরটি পাস’ ভোগাচ্ছে মেট্রো যাত্রীদের

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৪, ১০:১৬ পিএম

রাজধানীতে মেট্রোরেলের নতুন সময়সূচি কার্যকরের পর মতিঝিল থেকে উত্তরা পর্যন্ত সব স্টেশনে আগের চেয়ে ভিড় বেড়েছে। তবে মেট্রোরেলে চলাচলের জন্য যারা স্থায়ী কার্ড বা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) পাস কার্ড ব্যবহার করছেন তাদের অনেককেই নতুন করে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের প্রথম দিন শনিবার উত্তরা থেকে মতিঝিল সকাল ৭টা ১০ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলেছে মেট্রোরেল। যাতায়াতের সুবিধার্থে মেট্রোরেলের টিকিটের ক্ষেত্রে দুই ধরনের কার্ড ব্যবহার করেন যাত্রীরা। একক যাত্রা কার্ড ও স্থায়ী কার্ড। একক যাত্রার টিকিট স্টেশনে পাওয়া যায়। তবে যারা নিয়মিত যাতায়াত করতে বারবার টিকিট সংগ্রহ করার ঝামেলা পোহাতে চান না, তাদের জন্য রয়েছে এমআরটি পাস কার্ড।

আর এই এমআরটি পাস কার্ড পুরনো সিস্টেমে চলায় বিভিন্ন রকম হয়রানির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। কার্ড রিচার্জ করতেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয় তাদের।

মো. মনিরুল ইসলাম নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত রবিবার স্টেশন পার হওয়ার সময় আমার এমআরটি পাস কার্ড আটকে যায়। কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা পরে বিষয়টির সমাধান করে। অথচ দ্রুত যাতায়াতের জন্য এই এমআরটি পাস কার্ড নিয়েছিলাম। কিন্তু ভোগান্তিতে পড়তে হলো।’

ইয়াসির ইতিসাম তাসীন নামে এক মেডিকেল শিক্ষার্থী বলেন, ‘দেশে সব কিছুই তো এখন ডিজিটাল হয়ে যাচ্ছে। মোবাইলের মাধ্যমে সব কিছু হয়। তাই এমআরটি পাস কার্ড বহন না করে মোবাইলের মাধ্যমে যদি মেট্রোরেলে যাতায়াত করা যেত ভালো হত। এমআরটি পাস কার্ড উন্নত মানের না হওয়ায় এক মাসেই অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে।’ 

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দিন দিন মেট্রোরেলের চাহিদা বাড়ছে। এখন যেই সিস্টেমে এমআরটি পাস কার্ড ব্যবহৃত হচ্ছে এটা সেকালের পদ্ধতি। কারণ এখন দেশের বেশিরভাগ মানুষের মোবইল ফোনে এনএফসি সিস্টেম আছে, যার মাধ্যমে মোবাইলে সব কাজ করা যায়। আর স্টেশনে গিয়ে রিচার্জ পদ্ধতিটাও যাত্রীদের জন্য ভোগান্তির কারণ। মোবাইল ব্যাংকিং ও ই-ব্যাকিংয়ের মাধ্যমে রিচার্জের সিস্টেম চালু করা দরকার। সেই সঙ্গে মেট্রোরেলের নিজস্ব একটি সার্ভার ও মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে যাত্রীরা যেন সব কাজ করতে পারে সে ব্যবস্থা থাকা দরকার। তাহলে যাত্রীদের জন্য চলাচল আরও বেশি সহজ হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ইফতেখার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এমআরটি পাস কার্ডের যে সমস্যার কথা বলা হচ্ছে সেটি অনেক সময় যাত্রীদের ভুলের জন্যও গেটে আটকে যেতে পারে। আবার টেকনিক্যাল কিছু কারণেও হতে পারে। তবে সে সংখ্যা খুবই কম। তাছাড়া এটা শুরু হলো, এখনই তো সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব না। পর্যায়ক্রমে আরও নানা পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যাত্রীরা যেন যে কোনো জায়গা থেকে এমআরটি পাস কার্ড রিচার্জ করতে পারেন সে বিষয়গুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত