অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা দুদকের মামলায় সাবেক এক সরকারি কর্মকর্তাকে ৩ বছর ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ ২০ হাজার টাকা টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাস ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচার মুনসী আবদুল মজিদ এ রায় ঘোষণা করেন। এসময় আদালতের এজলাসে আসামি উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানামূলে তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দণ্ডিত মীর হোসেন সরকারি আবাসন পরিদপ্তর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের সাবেক উপ-পরিচালক। তিনি নোয়াখালী চাটখীল থানার সিংহ বাহুড়া গ্রামের মৃত মৌলভী আব্দুল খালেকের ছেলে। দুদক আইন ২০০৪ এর ২৭(১) ও ২৬(২) ধারার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাকে এ দণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন চট্টগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাভলু।
সূত্রটি জানায়, ২০০৯ সালের ১৫ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে ডবলমুরিং থানায় মামলা দায়ের করে দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক আলী আকবর৷ তার বিরুদ্ধে ২৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। তার মোট সম্পদ পাওয়া যায় ৬১ লাখ ৭৮ হাজার। এর মধ্যে জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ ৩৬ লাখ টাকা। ২০০৯ সালের জুলাইয়ে মামলার অভিযোগপত্র জমা পড়ে চট্টগ্রামের সিএমএম আদালতে। ওই আদালত সেসময় মামলাটি সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে প্রেরণ করেন। এরপর একই বছরের সেপ্টেম্বরে আদালত অভিযোগ আমলে নিলে বিচার নিস্পত্তির কাজ শুরু হয়। ২০১০ সালের ১ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। এরই মধ্যে আসামি মীর হোসেন আদালতের অভিযোগ গঠন আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারী রিভিশন দায়ের করেন। পরে হাইকোর্ট ২০২৪ সালের ২৩ জানুয়ারির মধ্যে মামলাটি নিস্পত্তির নির্দেশনা দেন।
বিচারিক আদালতে ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও আলামত গ্রহণ করা হয়। চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয় এবং আজ ২১ জানুয়ারি রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়। তারই প্রেক্ষিতে ২৭(১) ধারার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে ২৬(২) ধারায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাকে ৩ মাসের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ১৫ দিন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
