করোনায় মেয়রপুত্রের মৃত্যু, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৪, ১০:৫৯ এএম

চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার মেয়র আইয়ুব বাবুলের একমাত্র ছেলে আতিক শাহরিয়ার মাহি দুই বছর আগে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। করোনার টিকা না দেওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে— স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শুরু থেকেই এমন অভিযোগ করে আসছেন মেয়র মোঃ আইয়ুব বাবুল। গাফিলতির বিষয়ে মেয়রের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: সব্যসাচী নাথের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শামিউল ইসলাম। 

গত ১২ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে এই সুপারিশ করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা। এতে উল্লেখ করা হয়, টিকা প্রদান সংক্রান্ত গাফিলতির বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমোদন রয়েছে। ওই পত্রে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের (প্রশাসন) দৃষ্টিও আকর্ষণ করা হয়। 

চিঠিতে বলা হয়েছে , বিভাগীয় পরিচালক স্বাস্থ্য এর দপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগ জেলার পটিয়া উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সব্যসাচী নাথের বিরুদ্ধে পৌরসভার মেয়র আইয়ুব বাবুল কর্তৃক ‘একমাত্র পুত্রকে টিকা প্রদানে বাধা প্রদান ও পরবর্তীতে করোনা আক্রান্ত হয়ে সন্তানের অকাল মৃত্যুর’ অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এতদসংগে সংযুক্ত করে প্রেরণ করা হলো। ইহাতে মহাপরিচালক মহোদয়ের অনুমোদন রয়েছে।

শনিবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা কমিটির মাসিক সমন্বয় সভায় সংসদ সদস্য মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর কাছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিটি হস্তান্তর করেন মেয়র আইয়ুব বাবুল। 

প্রসঙ্গত, পটিয়া পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আইয়ুব বাবুলের একমাত্র ছেলে আতিক শাহরিয়ার মাহি ২০২২ সালের ১৭ জানুয়ারি করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান। গত বৃহস্পতিবার তার মৃত্যুর দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। মাহি পটিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। মৃত্যুর পর থেকে বাবা পৌর মেয়র আইয়ুব বাবুল চিকিৎসকের অবহেলাজনিত কারণে ছেলের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছিলেন। ওই ঘটনার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সব্যসাচী নাথ ও তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানববন্ধনসহ নানা আন্দোলন কর্মসূচি পালিত হয়। স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিচার চেয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মেয়র। কিন্তু অভিযোগ দায়েরের পর দুই বছর পার হলেও কোন সুরাহা হয়নি আজ পর্যন্ত।

মেয়র আইয়ুব বাবুল বলেন, আমার পদমর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করা ও নানা অনিয়মের বিষয়ে প্রতিবাদ করায় আমার সঙ্গে সাবেক ইউএনও এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দূরত্ব তৈরি হয়। আর এ দূরত্বের বলি হয়েছে আমার একমাত্র ছেলে মাহি। ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পরও কয়েক দফায় করোনার টিকা দেওয়ার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে নানা অজুহাতে আমার ছেলেকে সেদিন টিকা দেওয়া হয়নি। ফলে আমার ছেলে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও ইউএনরও বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রতিবাদের মূল্য দিতে হয়েছে ছেলের জীবন দিয়ে। ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ ও তদন্ত সম্পন্ন হলেও এখন পর্যন্ত দাপ্তরিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা পটিয়ায় কর্মরত আছেন বহাল তবিয়তে। মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে অধিদপ্তরের একটি পত্রের অনুলিপি কয়েকদিন আগে আমার কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সব্যসাচী নাথ বলেন, মেয়র পুত্রকে টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে তার কোনো অবহেলা ছিল না। মেয়র লিখিত যে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে দায়ের করেছেন সেটির প্রতিবেদন কি তাও তিনি অবগত নন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত