ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে কারা আছেন

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:৩৮ এএম

ডায়াবেটিস এক জটিল বিপাকীয় ব্যাধি। পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তিদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এতে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। মূলত ইনসুলিন নামক হরমোনের অভাব বা নিষ্ক্রিয়তার কারণে এমন হয়।

বয়স বাড়লে ঝুঁকি : বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকি বাড়তে থাকে ডায়াবেটিসের। চল্লিশে পা রাখলে ঝুঁকি বেড়ে যায়। যদিও ইদানীং বয়স ত্রিশের সীমানায় পৌঁছানোর আগে অনেকে আক্রান্ত হচ্ছেন ডায়াবেটিসে। তবু বলা যায় চল্লিশে পা দিলে জেনে নেওয়া দরকার রক্তে চিনির মাত্রা কেমন।

মুটিয়ে গেল বিপদ : মুটিয়ে গেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষত পেটের মেদ বেড়ে যাওয়া ডায়াবেটিসের জন্য একটি বড় ঝুঁকি । শরীরে যত বেশি মেদ ভুঁড়ি যোগ হবে ঝুঁকিও বাড়বে সমানতালে। যাদের বিএমআই ২৩ এর বেশি তারা ঝুঁকির  ভেতর। বিএমআই হচ্ছে বডি মাস ইনডেক্স। এটি নির্ণয় করা যায় খুব সহজেই। আপনার ওজন কিলোগ্রামে নির্ণয় করে তাকে উচ্চতার মিটারের বর্গ দিয়ে ভাগ করলে বেরিয়ে আসবেবিএমআই।

আয়েশি জীবন : আয়েশি জীবন ডায়াবেটিসের একটি বড় ঝুঁকি। শারীরিক পরিশ্রম, হাঁটাহাঁটি বা শরীরচর্চা ঝুঁকি হ্রাস করে।

পরিবারে ডায়াবেটিস হলে ঝুঁকি : যাদের রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয় পরিজনের ডায়াবেটিস রয়েছে তারা অন্যদের তুলনায় বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। যেমন: যদি মা, বাবা, ভাইবোন, চাচা-ফুপু, মামা-খালাদের ডায়াবেটিস থাকে তবে ঝুঁকি কিন্তু বেড়ে গেল। বিশেষত টাইপ-২ ডায়াবেটিসে এমন ঘটনা ঘটে।

মায়েদের ঝুঁকি : গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, ৯ পাউন্ডের চেয়ে বেশি ওজনের সন্তান জন্মদাত্রী মা ঝুঁকিতে আছেন। যে সব মহিলার পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম ব্যাধি রয়েছে তাদেরও এই রোগের ঝুঁকি বেশি।

উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল : যারা সবেমাত্র রক্তচাপে আক্রান্ত হয়েছেন কিংবা এজন্য ওষুধ সেবন করছেন তারাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। রক্তে চর্বির মাত্রা বৃদ্ধি পেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। বিশেষত ট্রাই-গ্লিসারাইডের মাত্রা প্রতি ডেসি লিটারে ২৫০ মিলিগ্রামের বেশি কিংবা এইচডিএলের মাত্রা ৩৫ মিলিগ্রামের নিচে থাকলে আপনি কিন্তু ঝুঁকির ভেতর পড়ে গেলেন। আর রক্তে চিনির মাত্রা পরীক্ষা করে যদি পাওয়া যায় প্রাক-ডায়াবেটিস তবে ঝুঁকি বেড়ে গেল। অনেকগুলো ঝুঁকি একসঙ্গে থাকলে তো কথাই নেই।

 প্রতিরোধ :

 চিনি এবং মিহি শর্করা জাতীয় খাবার বর্জন করা

 অল্প পরিমাণ খাবার গ্রহণ করা

 তন্তু বা ফাইবার জাতীয় খাবার গ্রহণ করা

 যে সমস্ত খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি সেগুলো পরিহার করা।

 ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।

 ধূমপান পরিহার করা। ধূমপানের ফলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বেড়ে যায়।

 প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা।

 রক্তে চর্বির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা। রক্তের কোলেস্টেরল ২০০ এলডিএল ১০০ এইচডিএল ২০ এর ওপরে এবং ট্রাই গ্লিসারাইড ১৫০ এর নিচে রাখা।

 রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।

 কোমল পানীয় পরিহার করে সাধারণ পানি পান করা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত