রুট পরিবর্তনে যাত্রী আসবে?

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৪, ১০:১২ পিএম

ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় দুধরনের পরিবহনব্যবস্থা রয়েছে। একটি হলো পাবলিক বাস,  লেগুনা এবং রিকশাসহ যাতায়াতের সাশ্রয়ী মাধ্যম। অন্যদিকে, সিএনজি এবং ট্যাক্সি ক্যাব পরিষেবাগুলোও পাবলিক ট্রান্সপোর্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সেগুলো তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল। যদিও অনেক মানুষ পরিবহনের জন্য ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহার করে, তবু সবার জন্য তা বিকল্প নয়। এরকম অবস্থায় মেট্রোরেল একটি সুবিধাজনক পরিবহন পরিষেবা প্রদান করছে রাজধানীবাসীদের। বর্তমানে প্রতিদিন লক্ষাধিক যাত্রীরা এই পরিষেবা নিচ্ছেন। সকালে পিক আওয়ারে প্রতি ট্রেনে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ১৮০০-২০০০ যাত্রী যাতায়াত করেন। এর প্রভাব পড়েছে বাস ব্যবসায়। মেট্রোরেলের কল্যাণে পাবলিক বাস এড়াতে পেরে যাত্রীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও, বাসমালিকরা পড়েছেন বিপাকে। এ বিষয়ে বুধবার দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত ‘রুট পরিবর্তনের চিন্তা বাসমালিকদের’ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে পাবলিক বাসমালিকদের অসহায়ত্ব এবং বাস চলাচলের জন্য বিকল্প পথেরও সন্ধান জানা গেছে। চলতি সপ্তাহে উত্তরা থেকে মতিঝিল সকাল ৭টা ১০ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলছে মেট্রোরেল। সময় বেড়ে যাওয়ায় মিরপুরগামী বাসে যাত্রী সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বৃহত্তর মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে চলাচলকারী বাসগুলোর রুট পরিবর্তনের চিন্তা করছেন বাসমালিকরা। যানজট এড়াতে মতিঝিল থেকে মিরপুরগামী রুট থেকে শুরু করে উত্তরা ও গাজীপুরের অনেক যাত্রী এখন মেট্রোরেল ব্যবহার করছেন। তা ছাড়া আগের মতো বাসের জন্য অপেক্ষায় না থেকে মেট্রোরেলের স্টেশনে গেলেই মেট্রোরেল পাওয়ায় বেশ আগ্রহী হয়ে উঠছেন যাত্রীরা। ফলে বাসে যাত্রী সংকট হওয়ায় অর্ধেক আয় কমেছে বাসমালিকদের। প্রতিবেদনে বিহঙ্গ পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির উদ্দিন খোকন বলেছেন, ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে বাসের মান আগের থেকে বাড়াতে হবে। কারণ মেট্রোরেল চলাচল করলেও কিছু যাত্রী থাকবেন যারা বাসই ব্যবহার করবেন। তাদের কথা চিন্তা করে আমরা বাসের মান বাড়াব। তাহলে অনেক যাত্রী পাওয়া যাবে, যারা বাসে চলাচল করবেন।

পিক আওয়ারে বাস না পাওয়া, অতিরিক্ত ভিড়, অল্প ব্যবধান, বাস কর্মচারীদের দুর্ব্যবহার ইত্যাদি কারণে ঢাকা শহরের মানুষ এতদিন ছিলেন অসহায়। এছাড়া গাড়িতে পকেটমার ও মলম পার্টির দৌরাত্ম্যও ছিল যাত্রীদের জন্য আতঙ্কের বিষয়। এখন বাসের রুট পরিবর্তন করলেই কি মেট্রোর যাত্রী পাবলিক বাসে ফিরে আসবেন? নাকি বাসের মান উন্নত করা জরুরি? এখনো সময় আছে যাত্রী ধরে রাখতে বাসের সেবার মান পরিবর্তন করতে হবে। অল্প সময় পরপর বাস ছাড়া, মানসম্মত বাস নামানো, সিটিং সার্ভিস চালু করা গেলে যাত্রী পাওয়ার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। যাত্রীদের সঙ্গে ভদ্রোচিত ব্যবহার এবং তাদের সুবিধা-অসুবিধার দিকে নজর দিতে হবে। অনেকবার বলা হয়েছে, পাবলিক বাসের ড্রাইভার, কন্ডাক্টর এবং হেলপারের একটা ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে। তাদের আচরণগত সমস্যার কারণে অনেক যাত্রী আর পাবলিক বাসে যাতায়াতে রাজি নন। এতদিন মানুষের সামনে কোনো বিকল্প ছিল না, এখন মেট্রোরেল আসাতে মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ছেন।

প্রতিবেদনে দুজন যাত্রীর মন্তব্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা মো. রাহাত নামের এক মেট্রোরেলের যাত্রী বলেন, ‘আমার বাসা মিরপুর পল্লবী। আর অফিস মতিঝিল। আগে বাসা থেকে বের হয়ে অফিসে যেতে হলে দুই ঘণ্টার বেশি সময় হাতে রেখে বের হতাম। কিন্তু এখন ২০ মিনিটের মধ্যে চলে যেতে পারি অফিসে। আগের মতো বাসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে বসে থাকতে হয় না। তাই আগের মতো বাসে ওঠা হয় না।’ পল্টন থেকে কারওয়ান বাজার আগে বাসে যাতায়াত করতেন মো. তামিম। বলছেন- এই স্বল্প দূরত্বের পথও আগে লক্কড়-ঝক্কড় বাসে খুব কষ্ট করে যাওয়া হতো। যানজটে ৪০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টাও সময় লেগে যেত। কিন্তু মেট্রোরেলে এখন ১০ মিনিটেই যাওয়া যাচ্ছে।

ঢাকা শহরে কি পাবলিক বাস ক্রমান্বয়ে কমতেই থাকবে নাকি যুগোপযোগী আধুনিক মানসম্পন্ন পাবলিক বাসের জন্য কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করবে? রুট পরিবর্তন করে যাত্রী সংকট সমস্যার সমাধান আদৌ সম্ভব নয়। বিষয়টি আরেক ধরনের ভোগান্তির কারণ হতে পারে। মনে রাখা দরকার, রাজধানীতে চলাচলকারী মোট জনসংখ্যার সিংহভাগ কিন্তু এখনো পাবলিক বাসেই রয়েছে। প্রয়োজন পাবলিক বাসের আধুনিকায়ন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত