ছেলের পুনঃনিরীক্ষণ আবেদন

এবার বোর্ড সচিবের স্ত্রীর মামলা সাইবার আদালতে

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:৪১ এএম

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব ও সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র নাথের ছেলে নক্ষত্র দেবনাথের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের পুনঃনিরীক্ষণ ইস্যুতে এবার সাইবার আদালতে অভিযোগ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সাইবার আদালতে এই অভিযোগ করেন নারায়ণ চন্দ্র নাথের স্ত্রী বনশ্রী নাথ।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তারা হলেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল আলীম ও চট্টগ্রাম সরকারি হাজী মুহম্মদ মহসিন কলেজ থেকে অবসরে যাওয়া রসায়ন বিভাগের শিক্ষক মুহম্মদ ইদ্রিস আলীসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন।

অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাইবার আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী।

মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অভিযোগটি আমলে নিয়ে আগামী ২৪ এপ্রিলের আগে বিষয়টি তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিতে নগর-পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।’

অভিযুক্ত অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল আলীম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সচিবের ছেলের পুনঃনিরীক্ষণের বিষয়টি পাঁচলাইশ থানায় করা জিডির রিপোর্ট থেকে আমাকে অবমুক্তি দেওয়া হয়েছে। তারপর আবারও এই ইস্যুতে কেন সাইবার আদালতে অভিযোগ? আর আমি তখনো বলেছি এখনো বলেছি, কে বা কারা আমার নম্বর ব্যবহার করেছে, পুলিশ তাদের খোঁজে বের করুক। এ বিষয়ে আমিও কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি করেছি।’

কিন্তু আপনার মোবাইলে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন মেসেজ আসার পর আপনি বোর্ডকে অবহিত করেননি কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি তো মেসেজ সিনও করিনি। আমার মোবাইলে প্রতিদিন শ-খানেক মেসেজ আসে সব তো আমি সিন করি না।’

সাইবার আদালতে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট তদন্ত করুক। আমিও চাই সঠিক বিষয়টি উদঘাটন হোক।’

অন্য অভিযুক্ত অধ্যাপক ইদ্রিস আলীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘সমাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিক্ষা খাত। সেখানে যদি কোনো অসংগতি উঠে আসে, সে বিষয়ে প্রতিকারের জন্য দৃষ্টি আকর্ষণে সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় আমার বক্তব্য উপস্থাপন করেছি। আমার বক্তব্য প্রদানের স্বাধীনতা তো রয়েছে।’

অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র নাথের ছেলে নক্ষত্র দেবনাথ গত বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। কিন্তু বাংলা বিষয় ছাড়া সব বিষয়ে জিপিএ ৫ পেলেও চতুর্থ বিষয়ে জিপিএ ৫ পাওয়ায় সামগ্রিক ফলাফলে জিপিএ ৫ পেয়েছেন নক্ষত্র দেবনাথ। ফলাফল প্রকাশের পর পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে গেলে নক্ষত্র দেবনাথের পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন আগেই কে বা কারা করে ফেলেছে বলে জানা যায়। নারায়ণ চন্দ্র নাথের স্ত্রী বনশ্রী নাথের করা জিডিতে এ ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছিল। তখন কে বা কারা এই পুনঃনিরীক্ষণ আবেদন করেছেন তা জানতে গত ৪ ডিসেম্বর পাঁচলাইশ থানায় জিডি করেছিলেন বনশ্রী নাথ। জিডির পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচলাইশ থানা-পুলিশ তদন্ত করে দেখতে পায়, নগরীর চকবাজার এলাকার চকরিয়া কম্পিউটার নামের একটি দোকান থেকে টেলিটক নম্বরের মাধ্যমে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনটি করা হয়েছিল। আর সেই আবেদনে রেফারেন্স নম্বর হিসেবে ছিল চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল আলীমের মোবাইল নম্বর। এদিকে রেফারেন্স নম্বর শিক্ষা বোর্ডের একটি চক্র ব্যবহার করেছে এবং তদন্ত করে বের করতে গত ২৬ ডিসেম্বর কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি করেছেন আবদুল আলীম।

ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফলও প্রকাশ হয়ে গেছে। সচিবের ছেলের রোল প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণ ফলাফলে ছিল না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ এম এম মুজিবুর রহমান ফলাফল প্রকাশের পর দেশ রূপান্তরকে বলেছিলেন, ‘শুধু যাদের ফলাফল পরিবর্তন হয়েছে প্রকাশিত ফলাফলে বিধি অনুযায়ী তাদের রোল নম্বরই থাকার কথা। আর কোন রোল নম্বর কার তা জানার কোনো সুযোগ ফলাফল প্রক্রিয়ায় নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত