আজ ২৬ জানুয়ারি ভারতের ৭৫ তম প্রজাতন্ত্র দিবস, দেশটির রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু দিল্লিতে কর্তব্যপথ থেকে প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনে নেতৃত্ব দেবেন। বিশেষ এই দিনে রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে এসেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। কুচকাওয়াজ পর্বে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০২৪ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসে ‘বিকশিত ভারত’এবং ‘ভারত লোকতন্ত্রের মাতৃকা’ থিমে কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করেছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী ও অংশগ্রহণকারীরা। এই বছরে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে এই প্রথম একসঙ্গে অংশ নিচ্ছে ভারতের তিন বাহিনীর নারী শক্তি। শৌর্য ও সমর সম্ভারের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যের ট্যাবলোর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে দেশের নানা প্রান্তের সংস্কৃতি।
দিল্লির কুচকাওয়াজে অংশ নিয়েছে ফরাসি বাহিনীর ৯৫ জন সদস্য। ৩৩ সদস্যের ফরাসি বাদকদল ছিল কুচকাওয়াজে। ফ্রান্সের বিমানবাহিনীর দুটি রাফাল যুদ্ধবিমানও ছিল ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের সমারোহে।
প্রজাতন্ত্র দিবসের ইতিহাস
সহজ কথায় ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস হচ্ছে প্রজাতন্ত্রটির জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন হয়েছিল কিন্তু দেশটির গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৫০ সালে সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে। ভারতের সংবিধান কমিটির শেষ বৈঠকটি ১৯৪৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের ঠিক এক মাসের মাথায় ভারতের সংবিধান স্বীকৃতি পায়। সেদিনটি ২৬ জানুয়ারি। এই দিন থেকেই প্রজাতন্ত্র দিবস পালন শুরু ।
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সংবিধান ভারতীয় সংবিধান। প্রতি বছর প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, কুচকাওয়াজ আয়োজন করা হয় দেশ জুড়ে।
১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ ভারতের পতাকা উত্তোলন করেন। ওই প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপিত হয়েছিল নয়া দিল্লির মেজর ধ্যানচাঁদ জাতীয় স্টেডিয়ামে। এই স্টেডিয়ামের আগের নাম অবশ্য ছিল আরিউইন অ্যাম্পিথিয়েটার।
প্রজাতন্ত্র দিবসের দিনই ভারতের জাতীয় সংগীত হিসেবে বেছে নেওয়া হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জনগণমন’ গানটির প্রথম অনুচ্ছেদ। এই গানটির প্রকৃত নাম যদিও ‘ভারত ভাগ্যবিধাতা’। এর মধ্যে মোট পাঁচটি অনুচ্ছেদ রয়েছে। যার প্রথমটি বেছে নেওয়া হয়েছিল সেই দিন। প্রসঙ্গত এই গানটি অবশ্য স্বাধীনতা উপলক্ষে লেখেননি কবি। ১৯১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর কলকাতায় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে এই গানটি গাওয়া হয়।