রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল উপশহরের ৪ নম্বর সেক্টরের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে বসেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৮তম আসর। মেলা শুরুর পর গতকাল শুক্রবার ছিল প্রথম ছুটির দিন। এ ছাড়া গেল কয়েক দিনের শীতের তীব্রতাও কমেছে। ফলে গতকাল মেলায় ছিল দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। মেলা জমে ওঠায় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি খুশি দর্শনার্থী ও ক্রেতারাও।
গত আসরের চেয়ে এবারের আসর আরও বেশি জাঁকজমকপূর্ণভাবে সাজিয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। গত ২১ জানুয়ারি মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মেলা উদ্বোধনের পর থেকে দর্শনার্থীর সংখ্যা তেমন বেশি না থাকলেও গতকাল ছুটির দিনে দর্শনার্থী ও ক্রেতার সমাগম ছিল বেশ ভালো। তবে মেলায় আসার পথে এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কে যানজটে পড়তে হয়েছে দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের। অবশ্য যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ অক্লান্ত পরিশ্রম করছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, গতকাল দুপুরের পর থেকে মেলায় বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী ও ক্রেতা আসা শুরু হয়। সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় কিছুক্ষণের মধ্যেই মেলা প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। স্টলগুলোর কর্মচারীরা সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে নিজেদের পণ্য সম্পর্কে জানিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করতে শুরু করেন। তবে মেলায় দর্শনার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে ভিড় দেখা করা গেছে শীতের কাপড়, গৃহস্থালির পণ্য ও ইলেকট্রনিকস আইটেমগুলোর দোকানে। এ ছাড়া মেলায় প্রথমবার শিশুপার্কের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিশুপার্কটিতে ফ্লিপার, ওয়াটারবকল, নাগরদোলা, নৌকা, ট্রেনসহ বিভিন্ন রাইড রয়েছে। যেখানে অভিভাবকরা শিশুপার্কে নিজেদের সন্তানদের বিভিন্ন রাইডে উঠিয়ে আনন্দ দিচ্ছে। তবে শিশুপার্কের রাইডের টিকিটের দাম তুলনামূলক অনেক বেশি বলে অভিযোগ করেন দর্শনার্থীরা।
কথা হয় গৃহস্থালিপণ্য ব্যবসায়ী জাকিরের সঙ্গে। তিনি বলেন, অবশেষে পাঁচ দিন পর বাণ্যিজ্য মেলা জমে উঠল। সকাল থেকেই বাণ্যিজ্য মেলায় দর্শনার্থীরা ভিড় করতে শুরু করেছে। মেলায় দর্শনার্থী হওয়ায় আমাদের বিক্রি বেড়েছে অনেক। এ কারণে আমরা অনেক বেশি খুশি।
ফার্নিচার দোকানের কর্মচারী সুমন বলেন, আমরা গত পাঁচ দিনে কোনো ফার্নিচার বিক্রি করতে পারিনি। আমরা ছুটির দিনের অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে আমাদের অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো। জমতে শুরু করেছে বাণিজ্য মেলা। সকাল থেকে টেবিল, চেয়ার, খাটসহ বেশ কয়েকটি ফার্নিচার বিক্রি করেছি।
ব্যবসায়ী খালেকুজ্জামান বলেন, শীতের কারণে ও দোকান নির্মাণকাজ সম্পন্ন না হওয়ায় এতদিন দর্শনার্থীরা আসছিল না। আজকে (গতকাল) প্রেক্ষাপট অনেকটাই পাল্টে গেছে। দর্শনার্থীরা যেভাবে আসতে শুরু করেছে, এতে আমরা অনেক খুশি।
নরসিংদীর মাদবদী থেকে মেলায় আশা দর্শনার্থী আমিনুল ইসলাম বলেন, বাণিজ্য মেলায় আসার দীর্ঘদিনের শখ আমার। মেলায় আসতে গিয়ে বাইপাস সড়কে যানজটে পড়ে ১০ মিনিটের রাস্তা দুই ঘণ্টা লেগেছে। বাড়ি ফেরার পথে কতক্ষণ রাস্তায় বসে থাকতে হবে জানা নেই। মেলায় আসতে গিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বাইপাস সড়কে যানজট। যানজট মুক্ত রাখতে মেলা কর্র্তৃপক্ষের ভূমিকা ভালো থাকা উচিত।
ঢাকা থেকে আসা দর্শনার্থী আকলিমা আক্তার বলেন, মেলায় ক্রেতাসমাগম ঘটায় অনেক ভালো লাগছে। মেলা থেকে কাপড়-জাতীয় কিছু পণ্য ক্রয় করলাম। সব মিলিয়ে ভালো লেগেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বিবেক সরকার বলেন, আগেই বলেছিলাম ছুটির দিন শুক্রবার থেকে বাণিজ্য মেলা পুরোপুরি জমে উঠবে। মেলায় জমে ওঠায় মেলা প্রাঙ্গণ এখন অনেকটাই পরিপূর্ণ মনে হচ্ছে। মেলায় দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। মেলায় ভিড়ের কারণে বিক্রিও বেড়েছে ব্যবসায়ীদের।
