রাজধানীর কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ১ হাজার ২০০-এর বেশি ট্রেনের টিকিট উদ্ধারের পাশাপাশি কালোবাজারির অভিযোগে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে র্যাব। গত বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব জানিয়েছে, টিকিটগুলো অবৈধভাবে সংগ্রহ ও মজুদ করা হয়েছিল। চক্রটির সদস্য প্রতি দিন গড়ে পাঁচ শতাধিক টিকিট বিক্রি করতেন।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। র্যাব বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন বা রেলস্টেশনের কাউন্টারে টিকিট পাওয়া যায় না। কিন্তু কালোবাজারে অধিক মূল্যে টিকিট বিক্রি হতে দেখা যায়। কালোবাজারিরা বিভিন্ন কৌশলে ট্রেনের টিকিট অগ্রিম সংগ্রহ করে নিজেদের কাছে মজুদ রাখেন। তারপর সাধারণ যাত্রীদের কাছে দেড় থেকে দুই গুণ বেশি দামে বিক্রি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন কালোবাজারির সেলিম সিন্ডিকেটের নেতা মো. সেলিম (৫০), তার প্রধান সহযোগী মো. আনোয়ার হোসেন কাশেম (৬২), শ্রী অবণী সরকার সুমন (৩৫), মো. হারুন মিয়া (৬০), মো. মান্নান (৫০), মো. আনোয়ার হোসেন ডাবলু (৫০), মো. ফারুক (৬২), মো. শহীদুল ইসলাম বাবু (২২), মো. জুয়েল (২৩) ও মো. আব্দুর রহিম (৩২)। তাদের কমলাপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দর রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে উত্তম সিন্ডিকেটের প্রধান উত্তমচন্দ্র দাস (৩০), তার প্রধান সহযোগী মো. মোর্শিদ মিয়া জাকির (৪৫), আব্দুল আলী (২২) ও মো. জোবায়েরকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়।
খন্দকার আল মঈন বলেন, সেলিম ও উত্তমের নেতৃত্বে চক্রটি সময় বুঝে সংগ্রহ করা টিকিট নিয়ে রেলস্টেশনের ভেতরে অবস্থান করে। টিকিট না পাওয়া সাধারণ যাত্রীদের কাছে তারা টিকিট বিক্রির জন্য ঘোরাঘুরি করে এবং অধিক মূল্যে টিকিট বিক্রি করে। অনেক ক্ষেত্রে টিকিটের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে দেয়। ঈদের ছুটিসহ বিভিন্ন ছুটিকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রতিটি টিকিট ৩-৪ গুণ বেশি মূল্যে বিক্রি করেন।
খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘কমলাপুর রেলস্টেশনে সেলিম সিন্ডিকেটের মূল হোতা গ্রেপ্তার সেলিম ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনে উত্তম সিন্ডিকেটের মূল হোতা উত্তমের নেতৃত্বে এ চক্রটি সংঘবদ্ধভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ মহানগর প্রভাতী, তূর্ণা নিশীথা, চট্টলা এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, উপকূল এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, কালনী এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করে আসছিল।
র্যাব জানায়, ট্রেনের কাউন্টারে বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ যাত্রী, রেলস্টেশনের কুলি, স্টেশনের আশপাশের এলাকার টোকাই, রিকশাওয়ালা ও দিনমজুরদের টাকার প্রলোভনে লাইনে দাঁড় করিয়ে টিকিট সংগ্রহ করা হয়। এ ক্ষেত্রে তাদের প্রত্যেককে ৪টি করে টিকিট সংগ্রহ করার বিনিময়ে ১০০ টাকা করে দিত। এ ছাড়া কাউন্টারে থাকা কিছু অসাধু বুকিং কর্মচারীর মাধ্যমে সাধারণ যাত্রীদের এনআইডি সংগ্রহ করে রাখে এবং প্রতিটি এনআইডির দিয়ে ৪টি করে টিকিট সংগ্রহ করে। এভাবে তারা প্রতিদিন প্রায় পাঁচ শতাধিক টিকিট সংগ্রহ করত। এরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দিয়ে অনলাইনে টিকিট কেটে সেগুলো তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করত।
এ ছাড়া রেলের কিছু অসাধু কর্মচারী এবং অনলাইনে টিকিট বিক্রির ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান সহজ ডটকমের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় টিকিট সংগ্রহের পাশাপাশি সার্ভারও ডাউন করে রাখতেন।
এক প্রশ্নের জবাবে কমান্ডার মঈন বলেন, সেলিম ও উত্তমের এই চক্রে রেলস্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে রেলের নিরাপত্তায় কর্মরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সদস্যরা জড়িত রয়েছেন। অনেকের বিষয়য়ে তথ্য পাওয়া গেছে।
