চলতি বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আসন্ন নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে হারিয়ে ট্রাম্প জয়লাভ করলে পশ্চিমা বিশে^র পররাষ্ট্রনীতি ও ভূ-রাজনীতির গতিপথ কোন দিকে যায় তা নিয়ে শঙ্কিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা।
ইউরোপের জন্য ডানপন্থি নেতাদের কর্মকা- এখন বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ইইউ বৈঠকের আগে ইউরোপীয় নেতারা স্বস্তিতে নেই; কারণ ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়ার ইউরোপীয় উদ্যোগ বেশ কয়েকবার ভেস্তে গেছে হাঙ্গেরির ডানপন্থি নেতা প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবানের কারণে।
নানা আইনি জটিলতা সত্ত্বেও রক্ষণশীল নেতা ট্রাম্প জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনে লাগার্দে বলেন, ট্রাম্পের সম্ভাব্য বিজয় ইউরোপের জন্য ‘স্পষ্ট’ হুমকি।
ইউরোপীয় বিদেশ নীতি পরিষদে (ইসিএফআর) প্রকাশিত নিবন্ধে সুইডেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কার্ল বিল্ডট বলেন, ‘ট্রাম্প আবারও জয়লাভ করলে তা গোটা বিশ্বে ডানপন্থি জোয়ার তৈরি করবে। যুক্তরাষ্ট্র জলবায়ু নীতি কাটছাঁট করে জীবাশ্ম জ্বালানিতে আরও বিনিয়োগ করবে। ন্যাটো জোট নেতিয়ে পড়বে। পুতিন ও ওরবানের মতো বন্ধুদের সঙ্গে পুনর্মিলন হবে। বাণিজ্যযুদ্ধ আরও জটিল হবে।’
ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে বেশ কয়েকবার ন্যাটো জোট থেকে সরে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। ইউরোপীয় ন্যাটো মিত্ররা আক্রান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র ট্রাম্পের নেতৃত্বে অগ্রসর হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সম্প্রতি বলেন, ‘তারা আমাদের সঙ্গে ভালোভাবে চললে সাহায্য করা হতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ন্যাটো জোট থেকে অনেক দেশ সুবিধা নিচ্ছে। ইউরোপীয় দেশগুলোও নিয়েছে।’
জার্মানির বার্লিনভিত্তিক কৌশলগত, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত এবং অর্থনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ট্রাইলেটারাল কমিশনের পরিচালক জোসেফ ব্রামল বলেন, ইউরোপকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে। ইউরোপীয়দের সমন্বিত তহবিলের মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে পারি।’
