মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীরা শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম ফেরদাউস হিলাল। তিনি উপজেলার লৌহজং মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
গতকাল বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির হোসেনের কাছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির বিষয়টি দুই শিক্ষার্থী মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। আজ বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযোগকারী দুই শিক্ষার্থী শ্লীলতাহানির শিকার আরও ৯ শিক্ষার্থীকে নিয়ে ইউএনও অফিসে আসে। এ সময় ইউএনও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।
অভিযোগকারী দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানান, প্রধান শিক্ষক বছরের পর বছর ছাত্রীদের শ্লীলতাহানি করে আসছেন। আমার সহপাঠীও ছোট বোনদের সঙ্গে তিনি সব সময় এমন করেন। এর সুষ্ঠু বিচার চাই। যাতে করে কোনো শিক্ষক আর এমন অশ্লীলতা না করতে পারেন।
আরেক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে প্রধান শিক্ষক থাকেন। সেই কক্ষের সামনে দিয়ে কোনো ছাত্রী হেঁটে গেলে তাকে তার কক্ষে ডেকে নেন প্রধান শিক্ষক হিলাল। এরপর কাউকে জড়িয়ে ধরেন। আরও বিভিন্নভাবে শ্লীলতাহানি করেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রতিবাদ করার মূল কারণ আমরা আর এক বছর আছি স্কুলে। কিন্তু পরবর্তী আমাদের ছোট বোনেরা যারা স্কুলে পড়বে তাদের সঙ্গে যেন এমনটি আর না ঘটে।
অভিযুক্ত ফেরদাউস হিলাল দেশ রূপান্তরকে জানান, এ অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। আসলে আয়া-বুয়ারা আমার রুমে থাকে এবং তাদের মেয়েরা আমার রুমে আসতো। এর ফলে এক বছর আগে ফিরোজ মোল্লার কাছে আমার বিরুদ্ধে এরকম মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছিল। কিন্তু আমি এরকম করিনি।
তিনি বলেন, আজও কয়েকজন ছাত্রীরা আমার বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অভিযোগ করেছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ছাত্র-ছাত্রীরা আমার সন্তানের মতো তাদের তো বিভিন্নভাবে শাসন, স্নেহ করতেই পারি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো জাকির হোসেন জানান, দুইজন শিক্ষার্থী আমার নিকট অভিযোগ দিয়েছে। এরপর আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছি। এটার সত্যতা পেলে আইনিভাবে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হবে।
