দেশ পাবলিকেশন্সের স্লোগান ‘চেতনায় ঐতিহ্য’। মুদ্রক নন, প্রকাশক হতে চান দেশ পাবলিকেশন্সের প্রকাশক, কবি অচিন্ত্য চয়ন। তার কাছে দেশ রূপান্তরের জিজ্ঞাসা ছিল, নিজে কবি হয়েও কোন চিন্তা থেকে প্রকাশনা ব্যবসা শুরু করেছিলেন? চয়ন খুবই অকপট। জানালেন, ছোটকাগজ করতাম, দেখলাম তরুণদের বই কেউ করতে চায় না, তরুণদের বই প্রকাশ করতে গিয়ে প্রকাশক হওয়ার চিন্তাটা মাথায় আসে। তরুণদের পাশে দাঁড়ানোর জন্যই এই চিন্তা করেছিলাম।
অবধারিত পরের প্রশ্ন ছিল, তরুণদের প্রতি এত প্রেম কেন? চয়ন জানালেন, আমাদের প্রতিষ্ঠিত লেখকরা একটা গণ্ডিতে আটকে থাকেন বলে মনে করি। তরুণরাই স্পর্ধা দেখান নতুন কিছু করার। ফলে আমি তারুণ্যসন্ধানী।
এক যুগ পার করেছে অচিন্ত্য চয়নের প্রকাশনা দেশ পাবলিকেশন্স। এর মধ্যে প্রকাশ করেছে প্রায় ৫ শতাধিক লেখকের ১ হাজার বই। অন্তত ৩০০ তরুণের গল্প, কবিতা, উপন্যাস ও গবেষণাগ্রন্থ প্রকাশ করেছেন চয়ন। প্রশ্ন ছিল, ১২ বছরের পথচলায় দেশ পাবলিকেশন্সের বড় অর্জনগুলো কী? চয়ন বললেন, এক যুগে প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছি, এই অর্জনটা বড় করে দেখি। কিছু ভালো বই প্রকাশ করতে পেরে নিজে তৃপ্তও আছি। তবে বাস্তবতা খুব কঠিন। প্রকাশনাশিল্প হিসেবে গড়ে না ওঠায় কিছু অর্জন ম্লান হয়ে যাচ্ছে, এটি সব প্রকাশকের জন্য দুঃখজনক।
ভালো প্রকাশনার বড় সংকট বলে অচিন্ত্য চয়ন মনে করেন সম্পাদনার অভাবকে। তিনি নিজে একটি গণমাধ্যমের সাহিত্য পাতা দেখেন। বললেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। সম্পাদনার জন্য ভালো বই করা যায় না, এই সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি বললেই চলে। তবে কিছু তরুণ প্রকাশক ভালো কাজ করছেন। আরেকটি বিষয় বলা জরুরি, অগ্রজ প্রকাশকরা তরুণদের পাশে দাঁড়াতে চান না; বরং তারা আরও দমিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। সরকারি ক্রয় তালিকায় কয়েকজন প্রকাশকেরই নাম বারবার দেখা যায়। এর অবসান হওয়া জরুরি। প্রকাশককে না কিনে, ভালো বই কিনলে আমরা যারা স্পর্ধা নিয়ে নতুন চিন্তার বই করি তাদের উপকার হতো।
অমর একুশে বইমেলায় দেশ পাবলিকেশন্সের প্রস্তুতি নিয়ে জানতে চাইলে চয়ন জানালেন, এবার বইমেলায় দেশ পাবলিকেশন্স ৫০টি বই প্রকাশ করছে। তিনি বলেন, সব বই যতœ করে করার চেষ্টা করি। এর মধ্যে দীপঙ্কর গৌতমের ভাষা নিয়ে ‘ভাষার রূপরেখা’, আনিফ রুবেদের উপন্যাস ‘কালকুটুরি’, কবীর রানার উপন্যাস ‘কেউ মরছে না’, মাহবুবা নাজমার উপন্যাস ‘জয়িতা’ এবং সাহিদা খানমের উপন্যাস ‘পরিণতি’; এই পাঁচটি বই এবার মেলায় পাঠকপ্রিয়তা পাবে বলে আমার মনে হয়।
প্রশ্ন ছিল, ১২ বছর পর প্রকাশক হিসেবে নিজেকে কোথায় দেখতে চান? কবি অচিন্ত্য চয়ন বললেন, আমার স্বপ্ন, শত মুদ্রকের ভিড়ে প্রকাশক হওয়া, মৌসুমি মুদ্রক হতে চাই না।
শেষ প্রশ্ন ছিল, লেখকদের টাকায় বই করার ব্যাপারটিকে কীভাবে দেখেন। উত্তরে চয়ন বললেন, এটা আসলে প্রায় সব প্রকাশক করেন। কেউ প্রকাশ্যে কেউ গোপনে বা কোনো কৌশল অবলম্বন করে। প্রকাশনা শিল্প না হয় উঠলে, এটা চলতেই থাকবে।
