সোমবার, ১৭ মার্চ ২০২৫, ২ চৈত্র ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

নষ্ট খাবারের বিল না দেয়ায় পুলিশ সদস্যকে মারধর, গ্রেপ্তার ৬

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:৩৮ পিএম

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এক খাবার হোটেলের মালিকের ছেলে ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশের এক পরিদর্শককে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সফিপুর বাজার এলাকায়। এ ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই হোটেলের ৬ কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

আহত ওই পুলিশের নাম মো, মেহেদী হাসান (৪২)। তিনি গাজীপুর জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত আছেন।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মেহেদী হাসান কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর বাজার এলাকায় একটি বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া থাকেন। শুক্রবার তার বাড়িতে কেউ না থাকায় তিনি দায়িত্ব পালন শেষে রাত ১০টার দিকে ইমা হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খেতে যান। ওই সময় তিনি সিভিল পোশাকে ছিলেন। রাতের খাবারের জন্য তাকে রুটি, ডাল ও হালিম পরিবেশন করা হয়। ডাল ও হালিম থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় সেই খাবার তিনি ফেরত দেন। ওই খাবার ফেরত দিলেও হোটেলের ক্যাশে থাকা হোটেল মালিকের ছেলে অলিউল্লাহ ওরফে শান্ত তার কাছে বিল দাবি করে। 

এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে অলিউল্লাহ কাচের গ্লাসের কিছু অংশ ভেঙ্গে তার মুখে আঘাত করে। এ সময় হোটেলে থাকা অন্য কর্মচারীরাও ওই পুলিশ কর্মকর্তার উপর হামলা চালিয়ে মারধর করে। পরে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সফিপুর একটি বেসরকারি  হাসপাতালে নেয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ভর্তি করা হয়। 

খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে কর্মচারী সাইফুল্লাহ সুমন, মমিনুল ইসলাম, শাফায়েত হোসেন, আব্দুল রাজ্জাক, জাহিদ হোসেন ও রাকিবকে গ্রেপ্তার করে। 

এ ঘটনায় আহত ওই পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে ঘটনার মূলহোতা অলিউল্লাহ পালিয়ে যাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

আহত ট্রাফিক পরিদর্শক মেহেদী হাসান বলেন, ক্যাশে থাকা ছেলেকে আমি জিজ্ঞেস করেছি নষ্ট থাকায় আমি হালিম ও ডাল খাইনি তারপরও কেন বিল ধরেছেন? তখন সে আমার সঙ্গে উত্তেজিত হয়ে উঠে। একপর্যায়ে গ্লাস ভেঙ্গে আমার মুখে আঘাত করে।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম নাসিম জানান, এ ঘটনায় আহত পুলিশ সদস্য বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে হোটেল মালিকের ছেলেকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

 

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত