সচিবদের সঙ্গে বৈঠক

দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:৪১ এএম

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’-এর কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, দুর্নীতি দমনের দায়িত্ব শুধু দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) না। দুর্নীতি নিরসন ও প্রতিরোধের দায়িত্ব প্রতিটি মন্ত্রণালয়েরও। তাই যেখানে-যেখানে ‘সার্ভিস পয়েন্ট’ আছে, সেখানে নজরদারি বা ভিন্নতর কৌশল অবলম্বন করে যে প্রক্রিয়া নেওয়া দরকার, তা নিয়ে দুর্নীতি দমনের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

গতকাল সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশ দেন। সভা শেষে বিকেলে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন এসব তথ্য জানান। সকাল ১০টায় শুরু হয়ে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠকে সব সচিব এবং বিভিন্ন দপ্তরের সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৫ থেকে ১৬ জন সচিব আলোচনায় অংশ নেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) নজরদারি করতে বলেছেন। নজরদারির ক্ষেত্রে তিনি একটি সুনির্দিষ্ট এরিয়ার কথা বলেছেন। অনেক সময় আমাদের দ্রব্যমূল্যের ক্ষেত্রে (পণ্য পরিবহন) বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদাবাজির প্রসঙ্গ আসে, নিউজ আসে। এ ক্ষেত্রে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে খুবই শক্তভাবে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন, এটি যেন কোথাও না হয়।’

মো. মাহবুব হোসেন বলেন, আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী একটি বিষয়ের দিকে নজর দিতে বলেছেন। বিশেষ করে ছিনতাই, কিশোরগ্যাং বা এ রকম যেসব অপরাধ হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করে নজর দিতে বলেছেন তিনি।

নতুন শিক্ষাক্রমের ব্যাপারে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যদি কোনো ভুলভ্রান্তি; তথ্যগত বা কোনো একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়, তাহলে দ্রুত যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি বলেছেন কোনো বিলম্ব হবে না। কোনো গ্যাপ তৈরি হলে যেন যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে বলেছেন।

মাহবুব হোসেন বলেন, ‘নতুন প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে খুবই সতর্ক হতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, তার মূল লক্ষ্য হলো জনমানুষের অবস্থানের উন্নয়ন। কাজেই প্রকল্প থেকে জনমানুষের উন্নয়ন হয়েছে কি না সেটা তিনি জানতে চাইবেন। সুতরাং নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সেই বিষয়টি দেখতে বলেছেন। তিনি বলেন, আজকের সভায় সব সচিব উপস্থিত ছিলেন। সচিব পদমর্যাদায় অন্য দপ্তরের যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারাও উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যে সচিব সভা হয়, সেটা নির্দিষ্ট কোনো বিষয় নিয়ে হয় না। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আমরা প্রত্যাশার কথা নির্দেশনা শুনতে চেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের আত্মপ্রত্যয়, আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মান বজায় রেখে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সভায় নির্বাচনী ইশতেহার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, রমজানের প্রস্তুতি, খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি, কৃষি উৎপাদন ও সার ব্যবস্থাপনা, কর্মমুখী শিক্ষা, নতুন পাঠ্যক্রম ও কর্মমুখী শিক্ষা, বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি নিরাপত্তা, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত