এশিয়া সফরের শেষ প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচে আজ বিকেলে জাপানের ভিসেল কোবের সঙ্গে খেলবে ইন্টার মায়ামি। তবে এ ম্যাচেও মেসি খেলতে পারবেন কি না তা তিনি নিজেও নিশ্চিত নন।
হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচে না খেলাকে দুঃখজনক বর্ণনা করে গতকাল টোকিওতে এক সংবাদ সম্মেলনে মেসি বলেছেন, ‘হংকং ম্যাচে আমার খেলতে না পারাটা দুর্ভাগ্য। সৌদি আরবে প্রথম ম্যাচ খেলার সময় আমি অ্যাডাক্টর পেশিতে (ঊরুর পেশি) অস্বস্তি অনুভব করি। এ কারণে আমি মাঠ থেকে উঠে যাই। (সৌদি আরবে) দ্বিতীয় ম্যাচে দেখতে চেয়েছিলাম কী রকম বোধ করি। কারণ, এমআরআই করানোর পর আমি জানতে পেরেছিলাম যে আমার অ্যাডাক্টর পেশিতে ফোলা আছে। কোনো চোট ছিল না বলে সেই ম্যাচে আমি খেলার চেষ্টা করেছি।’
সৌদি আরবে দ্বিতীয় ম্যাচে আল নাসরের বিপক্ষে শেষ দিকে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন মেসি। এরপর হংকংয়ে হংকং একাদশের বিপক্ষে খেলতে চলে যায় মায়ামি। এমএলসের দলটি হংকংয়ে পৌঁছানোর পরই মেসিকে নিয়ে শুরু হয় উন্মাদনা। তাকে কাছ থেকে একনজর দেখতে রাস্তায় নামে হাজার হাজার মানুষ। একপর্যায়ে সেখানকার পুলিশ শহরের রাস্তা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।
হংকং সফর নিয়ে মেসি বলেছেন, ‘হংকংয়ে আমরা উন্মুক্ত অনুশীলন করি এবং আমি সেই অনুশীলনে ছিলাম। কারণ, অনেক মানুষ সেখানে এসেছিল। এ ছাড়া শিশুদের নিয়েও একটা পর্ব ছিল। আমি সেখানে থাকতে চেয়েছি এবং অংশ নিতে চেয়েছি। কিন্তু সত্যি হচ্ছে, আমার (অ্যাডাক্টরে) অস্বস্তি ছিল এবং খেলাটা আমার জন্য কষ্টকরই ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ফুটবলে এমন ঘটনা যেকোনো ম্যাচেই হতে পারে। আমাদের চোট থাকতে পারে। আমার ক্ষেত্রে এটাই হয়েছে।’
মেসি এখানেই থামেননি; হংকংয়ে খেলতে না পেরে তিনি নিজেও যে হতাশ হয়েছেন, এরপর সেটাই বলেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক, ‘আমি যে হংকং ম্যাচে খেলতে পারিনি, এটা দুঃখজনক। আমি সব সময়ই খেলতে চাই। বিশেষ করে আমরা যখন সফর করি এবং মানুষ আমাদের ম্যাচ দেখার জন্য উন্মুখ থাকে।’ এরপর হংকংয়ের ফুটবলপ্রেমীদের সান্ত্বনা দেওয়ারই যেন চেষ্টা করেছেন মেসি, ‘আশা করছি আমরা আবার আসব এবং আরেকটা ম্যাচ খেলব আর আমি সেখানে থাকব। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, আমার খেলতে না পারাটা দুঃখজনক।’
মেসি এরপর যা বলেছেন, সেটাতে হয়তো হংকংয়ের ফুটবলপ্রেমীদের আক্ষেপ একটু বাড়বে, ‘আজ বিকেলে আমরা অনুশীলন করব। আমি আবার চেষ্টা করব। সত্যি হচ্ছে, আমি গত কয়েক দিনের তুলনায় আমি অনেক ভালো বোধ করছি। সবকিছু নির্ভর করছে অনুশীলনে কেমন বোধ করি, তার ওপর। সত্যি বলছি, (ভিসেল কোবের) বিপক্ষে খেলতে পারব কি না, তা এখনো জানি না। কিন্তু আমি আগের চেয়ে ভালো বোধ করছি এবং খেলতে চাই।’
মেসি বলেন, ‘আমরা প্রাক-মৌসুমে আছি এবং আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তারিখ হচ্ছে ২১ ফেব্রুয়ারি, যেদিন আমাদের লিগ মৌসুম শুরু হবে। এই মুহূর্তে আমরা টানা অনেকগুলো খেলা, প্রচুর ভ্রমণ, সময় অঞ্চল পরিবর্তন থেকে আসছি এবং আমরা খেলার মানের উন্নতি অব্যাহত রাখতে এবং ভবিষ্যতে ভালো কিছু অর্জনের জন্য আমরা সেরাটি প্রস্তুত করার আশা করি।’
মেসি এর আগেও জাপান সফর করেছেন, এবং বলেছেন যে এই দেশটিতে ফিরতে পেরে তিনি খুশি। তবে এত ভ্রমণের পর একটু ক্লান্ত তিনি এবং বাড়ি ফেরার তাগিদ অনুভব করছেন, ‘আমি আমার ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে বার্সেলোনা, পিএসজি এবং জাতীয় দলের সঙ্গে এর আগে বেশ কয়েকবার জাপান সফর করেছি এবং এখানকার মানুষ আমাকে ভালোবাসে, তাই এখানে ফিরে আসা চমৎকার। কিন্তু এত দীর্ঘ সময় ধরে খেলা ও ভ্রমণের পর আমি কিছুটা ক্লান্ত এবং শেষ ম্যাচটি খেলতে এবং তারপর বাড়ি ফেরার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছি।’
টোকিওর অলিম্পিক স্টেডিয়ামে আজকের ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায়।
