সুবর্ণচরে মা-মেয়েকে ধর্ষণ, আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:১১ এএম

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আবুল খায়ের ওরফে মুন্সী মেম্বারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে জেলা শহর মাইজদী থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে সোমবার রাত ২টার দিকে উপজেলার চর ওয়াপদা ইউনিয়নের চর কাজী মোখলেছ গ্রামে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তার আবুল খায়ের ওরফে মুন্সী মেম্বার (৫০) উপজেলার চর ওয়াপদা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চর কাজী মোখলেছ গ্রামের বাসিন্দা এবং চর ওয়াপদা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি। নির্যাতিত গৃহবধূর বয়স (৩০) ও তার মেয়ের বয়স (১২)। মেয়ে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী পেশায় একজন দিনমজুর। তিনি চার-চার দিন পরপর বাড়িতে আসেন। তাকে কাজের জন্য প্রায়ই বাইরে থাকতে হয়। ভুক্তভোগী গৃহবধূর ভাষ্যমতে, এই সুযোগে সোমবার রাত ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে তার বসতঘরের সিঁধ কেটে তাকে এবং তার মেয়েকে ধর্ষণ করে তিনজন। এর মধ্যে তাকে দুজন ধর্ষণ করে এবং তার মেয়েকে ধর্ষণ করে একজন।

নির্যাতিতার স্বামী জানান, মুন্সী মেম্বার কিছুদিন আগে তার স্ত্রীকে পোড়া মোরগ খাওয়ানোর প্রস্তাব দেয় এবং বিপদ-আপদে পড়লে সহযোগিতার কথা বলে। কিন্তু তার স্ত্রী ওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মুন্সী মেম্বার তার মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে ফোনে উক্ত্যক্ত করতেন। পরে মোবাইল নম্বর ব্লক করে দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। ওই ঘটনার জেরে তারা এ ঘটনা ঘটান।

নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার এসপি মো. আসাদুজ্জামান জানান, মামলার প্রধান আসামি আবুল খায়ের ওরফে মুন্সী মেম্বারকে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় অজ্ঞাত একজনসহ দুজনের নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। গৃহবধূ ও তার মেয়েকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের রাতে সুবর্ণচরে স্বামী-সন্তানকে বেঁধে রেখে এক নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। আলোচিত ওই ঘটনার মামলার রায়ে গত সোমবার ১০ জনকে ফাঁসি ও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। মামলার প্রধান আসামি ছিলেন সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিন মেম্বার। আলোচিত ওই মামলার রায়ের ১২ ঘণ্টার মধ্যে একই উপজেলায় আরেকটি দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত