মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্য ও এর আশপাশের ছয়টি শহর থেকে উচ্ছেদ সামরিক জান্তার অনুগত বাহিনী। রাখাইনের নৃতাত্ত্বিক সশস্ত্র সংগঠন (ইএও) আরাকান আর্মি (এএ) ওই শহরগুলোর ওপর পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। আরও দুটি শহর আরাকান বিদ্রোহীদের দখলে আসার দ্বারপ্রান্তে। গত বছরের ১৩ নভেম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে তারা।
আরাকান আর্মির যোদ্ধারা রাখাইনের সামি, পাউকতাউ, মিনবিয়া, কিয়াকতাউ ও তাউং পি লেত ওয়ে শহর থেকে জান্তার বাহিনীকে হটিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া পালেতওয়া শহরটিও এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। আরও দুটি শহর দখলের কাজ প্রায় শেষপ্রান্তে। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা এবং এর কাছাকাছি শহর ও এলাকায় ক্রমাগত নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে জান্তার বাহিনী।
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাখাইন এলাকার ঘাঁটিগুলো থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পর আকাশপথে হামলা অব্যাহত রেখেছে তারা।
আরাকান আর্মি দাবি করেছে, গত ১৪ জানুয়ারি পালেতওয়া, ১৬ জানুয়ারি সামি, পাউকতাউ ১৯ জানুয়ারি, মিনবিয়া ও তাউং পোয়ে লেত ওয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি এবং কিয়াকতাউ দখল করেছে ৭ ফেব্রুয়ারি। রাখাইন রাজ্যের সাবেক রাজধানী ম্রাউক-ইউ। এখানে একটি সামরিক ঘাঁটি ছাড়া সবই দখল করেছে আরাকান আর্মি। ধারণা করা হচ্ছে, শিগগিরই এর দখল হারাবে জান্তার অনুগত সেনারা।
আরাকান আর্মি আরও বলছে, গত ১৩ নভেম্বরের পর থেকে ধারাবাহিক আক্রমণে জান্তার প্রায় ২০০টি ঘাঁটি দখল করেছে তারা। এর মধ্যে কয়েকটি ছিল বড় বড় সামরিক কমান্ড সেন্টার ও ব্যাটালিয়ন।
আরও দুটি জাতিগত সংগঠনের সঙ্গে আরাকান আর্মি মৈত্রী গড়ে তুলে জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই করছে। মৈত্রী জোট ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’ নিয়মিতভাবে তাদের লড়াইয়ের খবরাখবর জানাচ্ছে। আরাকান আর্মি জানিয়েছে, তারা ম্রাউক-ইউ এবং রামরি দখলের দ্বারপ্রান্তে।
