তুর্কি নিয়ন্ত্রিত উত্তর সাইপ্রাসে বহুতল ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মোহাম্মদ আলী সোহাগ হুজুর নামে এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। নিহত সোহাগ সোনাগাজী উপজেলার চরছান্দিয়া ইউনিয়নের মধ্যম চরছান্দিয়া গ্রামের আক্রাম আলী হাজি বাড়ির রফিকুল ইসলামের ছেলে।
শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাইপ্রাসের বাংলাদেশ প্রবাসী ফোরামের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম।
মোবাইলে তিনি বলেন, সোহাগ ইউরোকষ্ট কোম্পানিতে পাইপ ফিটারের কাজ করতেন। ঘটনার সময় বহুতল ভবনে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত পা পিছলে নিচে পড়ে গুরতর আহত হয়। পরে কোম্পানির লোকজন তাকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই ঘটনাস্থলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি আরও জানান, সাইপ্রাসের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই তাই প্রবাসী ফোরাম নিজেদের উদ্যেগে তার লাশ দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোহাগ স্থানীয় মসজিদে ইমামতি করতেন বলে এলাকায় সে সোহাগ হুজুর নামে পরিচিত ছিলেন। গত ছয় মাস আগে ভাগ্য বদলের আশায় প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয় করে সাইপ্রাসে যায়। সেখানে ২৫শ তুর্কি লিরা যা বাংলাদেশি টাকায় ১ লাখ বেতনে ইউরোকষ্ট কোম্পানিতে কাজ করতেন। সাইপ্রাসে যাওয়ার কিছুদিন আগে তিনি বিয়ে করেন। গত রাতে পরিবারের সাথে শেষ বারের মতো কথা হয় বলে জানিয়েছেন নিহতের বাবা রফিকুল ইসলাম।
চরছান্দিয়া ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য নুর আলম লিটন বলেন, দুপুরে সাইপ্রাসে অবস্থানরত কয়েকজন বাংলাদেশি ফোন করে সোহাগের মৃত্যুর খবর আমাদের অবহিত করেন। ধার দেনা করে পরিবার তাকে ভাগ্য বদলের প্রত্যাশায় সাইপ্রাস পাঠালেও তার মৃত্যুতে পরিবারটির অনিশ্চিত ভষ্যিতের মুখে পড়ে গেল।
