আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা আজ

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:০২ এএম

জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দলের নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মধ্য দিয়ে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা ঘোচাতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকারি দল। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই আজ শনিবার দলটি বিশেষ বর্ধিতসভা ডেকেছে। 

এই সভা যে গুরুত্বপূর্ণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য থেকেই তা বোঝা গেছে। গতকাল শুক্রবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে তিনি বলেছেন, নির্বাচনে নিজেদের মধ্যে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি, মতবিরোধ, দ্বন্দ্ব, সংঘাতের মতো দুঃখজনক ঘটনাও ঘটেছে। এসব হানাহানি, দলের অভ্যন্তরে অন্তঃকলহ এসব বিষয়ের অবসান ঘটিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দলে সুদৃঢ় ঐক্য দরকার।

সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের ‘বিশেষ বর্ধিতসভা’ অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দলের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়, বিশেষ বর্ধিতসভায় আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, জেলা/মহানগর ও উপজেলা/থানা/পৌর (জেলা সদরে অবস্থিত পৌরসভা) আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা, জাতীয় সংসদের দলীয় ও স্বতন্ত্র সদস্যরা, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের দলীয় চেয়ারম্যানরা, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার দলীয় মেয়ররা এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত থাকবেন।

দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিশেষ বর্ধিতসভায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

ধানম-ির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, গত নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। কৌশলগত কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচন করেছেন। যে নির্বাচনে ৬২ জন নির্বাচিত হয়েছেন। তারাও কিন্তু আওয়ামী লীগের। অনেকে আওয়ামী লীগের পদধারীও আছেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সবকিছু ভুলে গিয়ে উপজেলা নির্বাচন, মেয়র নির্বাচন পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে যেন মনোমালিন্য, কোনো সংঘাত সৃষ্টি না হয় সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সবার মধ্যে ঐক্যবদ্ধ আবহ তৈরির জন্য এই বিশেষ বর্ধিতসভার আয়োজন।

গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ হয়ে দলটির নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হন ২১৯টি আসনে। এর মধ্যে প্রায় ১৩০ আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন স্বতন্ত্ররা। রেকর্ড ৬২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হন, যাদের ৫৯ জনই আওয়ামী লীগের। আওয়ামী লীগে নেতাকর্মীরাই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন করেন প্রকাশ্যে। জয়ের নিশ্চয়তা পেতে মারামারি-হানাহানিও ঘটে।

১৭ জানুয়ারি হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) নামের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণকারী একটি সংগঠন জানায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে সহিংসতায় সারা দেশে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে সংঘাত-সংঘর্ষে ২ হাজার ২০০ জন আহত ও শতাধিক মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

নির্বাচন-পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে ৩৫০টির বেশি গৃহ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনার তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি। এসব ঘটনার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগের বিজয়ী বা পরাজিত পক্ষের নেতাকর্মীরা জড়িত। ভোটগ্রহণের দিন কমপক্ষে ৫০টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে এইচআরএসএস। এদিন মুন্সীগঞ্জ, বরগুনা ও কুমিল্লায় তিনজন নিহত এবং দেড় শতাধিক মানুষ আহত হন। এর মধ্যে ১৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

বিএনপির মতো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে ভোটযুদ্ধ করতে হয়নি আওয়ামী লীগকে। বিএনপি ভোট বর্জন করায় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করার বিদেশি চাপ সামাল দিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামানো হয় আওয়ামী লীগকেই। যারা আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন, তাদের স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচন করার অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকে দুপক্ষ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শক্তির দম্ভের কারণে সরাসরি সংঘর্ষ বা প্রতিশোধমূলক হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সহিংসতা বন্ধ হলেও নির্বাচন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে যে বিরোধী, হানাহানি হয়েছে তা এখনো মেটেনি। এ অবস্থায় সামনে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নির্বাচন। ফলে দলীয় ঐক্য ফেরাতে আওয়ামী লীগকে কেন্দ্রীয়ভাবে উদ্যোগ নিতে হয়েছে।

এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিতসভায় আমন্ত্রিত নেতারা বিজয় সরণি দিয়ে জাতীয় সংসদের লেক রোড হয়ে গণভবনের ১ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করবেন। সভায় অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিগত গাড়ি পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত স্থানে (বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রসংলগ্ন মাঠ) পার্কিং করতে হবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এ নির্দেশনা মেনে চলার জন্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত