শখের বশে কতকিছুই তো আমরা পালতে শুনেছি। ইতিমধ্যে দেশের অনেকেই বিভিন্ন ব্যতিক্রমধর্মী প্রাণী তাদের ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানায় পালন করে বেশ সাড়া ফেলেছে। তবে আকারে সবচেয়ে ক্ষুদ্র প্রাণী পিঁপড়াও যে মানুষের পোষ্য হতে পারে এটা হয়তো অনেকেই বিশ্বাস করবেন না। আর এই পিঁপড়া পুষেই রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন টাঙ্গাইলের বার্ডস ভ্যালির কর্ণধার সোহান খান। ইতিমধ্যে তার ফেসবুক পেজটিতে তিনি লক্ষাধিক ফলোয়ারও অর্জন করেছেন। পিঁপড়ার পাশাপাশি তিনি ব্যতিক্রমধর্মী পাখি, মাছ এমনকি শামুকও পালন করেন।
বাইরের দেশে পিঁপড়াকে পোষ্য প্রাণী হিসেবে দেখলেও বাংলাদেশে এটাকে শুধু একটা কীট হিসেবেই দেখা হয়। সোহান এই পিঁপড়াকে পোষ্যপ্রাণীর তালিকায় নিয়ে গেছেন। তার সংগ্রহে বর্তমানে ইস্টার্ন কার্পেন্টারের মতো দুষ্প্রাপ্য পিঁপড়াও রয়েছে। এসব পিঁপড়ার থাকার জন্য ককশিট, বক্স ও বোতল দিয়ে কৃত্রিম কলোনি তৈরি করেছেন। শখ এবং প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসা থাকলে যে পিঁপড়াও পোষা সম্ভব সেটিই যেন প্রমাণ করেছেন সোহান।
এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সম্পর্কে সোহানের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি মূলত দেশের বাইরে যারা পিঁপড়া পালন করে তাদের দেখেই অনুপ্রাণিত হয়ে পিঁপড়া পালা শুরু করেন। ব্যতিক্রমী কিছু পাখি ও মাছ পালনের মধ্য দিয়ে তার যাত্রা। ২০১৮ সাল থেকে পাখি পালন শুরু করেন বাণিজ্যিকভাবে। প্রায় ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে প্রতিমাসে তার আয় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। এছাড়াও তিনি পিঁপড়া ও অন্যান্য পোষ্যপ্রাণী লালন-পালনের ভিডিও ফেসবুক ভ্লগিংয়ের মাধ্যমে সবার সামনে তুলে ধরেন, যা দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন হাজারো মানুষ।
পিঁপড়া বাণিজ্যিকভাবে পালন করা যায় কি-না প্রসঙ্গে সোহান বলেন, বিদেশে দুষ্প্রাপ্য অনেক পিঁপড়া বিক্রি করা হয়। হানিপট নামের এক পিঁপড়া আছে যেগুলো দিয়ে মধু উৎপাদন করে অনেকে। এসব মধু বাজারে বেশ চড়ামূল্যে বিক্রি হয়। বাংলাদেশে এটি এখনও সেভাবে প্রচলিত হয়নি। শুধুমাত্র পিঁপড়ার ডিম বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির প্রচলন আছে। তবে আমি পিঁপড়া শখের বসে পালা শুরু করলেও একসময় এটি অন্য দেশের মতোই আমাদের দেশেও বাণিজ্যিকভাবে পালন হবে বলে আশা করছি। দেশে যেহেতু পিঁপড়া পালন কেউ শুরু করেনি তাই ভাবলাম আমিই এটি শুরু করি। সাধারণত পিঁপড়া যেভাবে থাকতে পছন্দ করে আমরা তেমনভাবেই চেষ্টা করি সেটআপ দিতে। সাধারণত বোতলের মধ্যে বা প্লাস্টিকের বক্সে পিঁপড়ার জন্য ঘর তৈরি করি। এখানেই মিষ্টি বা তুলার সাথে চিনিযুক্ত পানি দিয়ে ভিজিয়ে পিঁপড়াদের খেতে দিই। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো পিঁপড়াগুলো বোতলের বাইরে বের হলেও একসময় ঠিকই বোতলের ভেতরে ঢুকে প্রমাণ করে- পিঁপড়া হলেও ওদের পোষ মানানো অসম্ভব নয়।
পরিচিত মানুষদের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, পোষ্য হিসাবে পিঁপড়া পালন করছি বলে শুরুতে আমাকে মানুষ পাগলামি করছি বলে আখ্যা দিত। তবে পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে সবাই পজিটিভ হয়। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার অনুসরণকারীদের বেশির ভাগই আমার এই শখের বিষয়টি অনেক ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। পরিবার থেকেও এটা নিয়ে অনেক সাপোর্ট পেয়েছি। একসময় অজগর বা গিরগিটি পালনকারীদের মানুষ পাগল বলত। এখন স্বাভাবিকভাবে অনেকেই এগুলো পালছে। এগুলো আসলে শখ, শখের বসে যেকোনো প্রাণীই পালন করা যায়। আমি পিঁপড়ার পাশাপাশি শামুকও পালছি, যার ভিডিও খুব শিগগিরই সোশাল মিডিয়াতে প্রকাশ করব।
