চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে একদিকে পাহাড় কাটা অপরদিকে পুকুর ভরাট সমানতালে চলছে। একশ্রেণির লোক পাহাড়ি এলাকার টিলা ও মাটি কেটে বিক্রি করছে আবার সে মাটি ইটভাটায় নয়তো পুকুর ভরাট কিংবা নতুন ভিটাবাড়ি করার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ।
সম্প্রতি বাঁশখালী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা ও মানব পাচার প্রতিরোধ সভায় কয়েকজন জনপ্রতিনিধির পাহাড়ি মাটি কাটার ও পুকুর ভরাটের বিষয়টি তুলে ধরলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে দেওয়া হলেও তা কিছুতেই রোধ হচ্ছে না। যারা অবৈধভাবে পাহাড়ি মাটি কিংবা পুকুর ভরাট কাজে লিপ্ত তারা আগে থেকে সদরে তাদের সোর্স রাখে, যাতে করে প্রশাসনের লোকজন মোবাইল কোর্ট কিংবা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার আগেই নিজেরা নিরাপদে সরে যেতে পারে।
পাহাড়ি গাছ কাটা, পাহাড় দখল ও মাটি বিক্রিতে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বাঁশখালীর পাহাড়ি এলাকায় কয়েক হাজার অবৈধ বসতি গড়ে উঠলেও তা প্রতিরোধে বন বিভাগের নীরবতা রহস্যজনক। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণ বন বিভাগের অর্থ লেনদেনের কারণে এসব হচ্ছে বলে জানান।
বর্তমান শুষ্ক মৌসুমে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সংঘবদ্ধ চক্র পাহাড়ের মাটি কাটা চলছে। এক্সেভেটর দিয়ে এসব মাটি কেটে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ, জমি ও পুকুর ভরাটের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ইটভাটায় ইট তৈরিতেও পাহাড়ের এই মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এভাবে পাহাড় কাটায় জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পাশাপাশি পরিবেশ বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।
সরেজমিনে বাঁশখালীর চাম্বল ইউপির বড় বিল ও ছোট বিল, বৈলছড়ি ইউপির পূর্ব বৈলছড়ি ও পূর্ব চেচুরিয়া ধুইল্যাঝিরি, সরল ইউপির পাইরাং, পুঁইছড়ি ইউপি, পৌরসভার উত্তর জলদীসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটা হচ্ছে। উঁচুনিচু এসব পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াতের রাস্তা সংকীর্ণ হলেও পাহাড় কেটে সেখানে ট্রাক, মিনি ট্রাক চলাচলের উপযোগী রাস্তা তৈরি করা হয়েছে।
অপরদিকে, বাঁশখালীর বিশাল বিশাল ঐতিহ্যবাহী পুকুরগুলো ভরাট করে তৈরি করা হচ্ছে নানা স্থাপনা ও বাড়িঘর। পৌর সদরের জলদী এলাকায় ছোট-বড় ২০-৩০ পুকুর ভরাট শেষ করে বর্তমানে ভরাট চলছে কাজী পুকুর ও দারোগা পুকুর। এসব পুকুরের বেশ কয়েকজন অংশীদার থাকায় একজনের কাছ থেকে কোনোরকমে কিছু অংশ কিনে তা ধীরে ধীরে ভরাট করতে থাকে প্রভাবশালী ক্রেতাপক্ষ।
‘ফলে অগ্নিকা-ের মতো বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা হলে পানির জন্য হাহাকার করতে হয়’ বলে জানান বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিস টিমের ইনচার্জ আযাদুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়া পুকুর ভরাট করা হচ্ছে সেখানে মানুষজন বহুমুখী সমস্যায় পড়বে।’
পৌরসভার বেশ কয়েকটি পুকুর ধারাবাহিকভাবে ভরাট শেষে চলমান পৌর অফিসের সামনে দারোগা পুকুর ভরাটের ব্যাপারে বাঁশখালী পৌরসভার মেয়র এসএম তোফাইল বিন হোছাইন বলেন, ‘যারা অনিয়ম ও কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়া এসব কাজ করছে তাদের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম দক্ষিণের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অচিরেই বাঁশখালী এলাকায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটা ও পুকুর ভরাটের ব্যাপারে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে। আমাদের সোর্সের মাধ্যমে পাহাড় কাটা ও পুকুর ভরাটের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।’
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, ‘স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এ ব্যাপারে সজাগ না হলে তা রোধ করা কঠিন হবে।’
